মহেরা জমিদার বাড়ি,মহেরা জমিদার বাড়ি,মহেরা জমিদার বাড়ী,টাঙ্গাইল,মহেড়া জমিদার বাড়ি,জমিদার বাড়ি,নাটিয়াপারা জামিদার বাড়ি,মহেরা জমিদার বাড়ির ইতিহাস,মহেরা,মহেরা জমিদার বাড়ী

”মহেরা জমিদার বাড়ি” পরিচিতি

মহেরা জমিদার বাড়ি(Mohera Jamindar Bari) এক কথায় বলা যায় বাংলাদেশের মধ্যে সব থেকে সুন্দর এবং গুরুত্বের সাথে সংরক্ষিত একটি জমিদার বাড়ি। ১৮ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইল সদর থেকে মহেরা জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। জমিদার বাড়িটি প্রায় ৮ একর জায়গা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাচীন সুসভ্য এবং ঐতিহ্যের অমূল্য নিদর্শন পক্ষপাত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই মহেরা জমিদার বাড়ি। তার সাথেই ব্যবস্থা করা আছে ছোট পার্ক,পিকনিক স্পট, চিড়িয়াখানা ও বোট রাইডের। ঢাকা থেকে অনেক কাছেই অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি তাই সকালে রওনা দিলে এক দিনেই জমিদার বাড়ি পরিদর্শন করে চলে আসতে পারবেন।

বিশাল দুইটি সুরম্য গেট মহেরা জমিদার বাড়ির প্রবেশ পথে রয়েছে। তিনটি বিশাল প্রধান ভবনের সাথে নায়েব সাহেবের ঘর, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, দীঘি ও আরো তিনটি লজ অবস্থিত। প্রবেশ পথের আগেই রয়েছে বিশাল একটি দীঘি যা ‘বিশাখা সাগর’ নামে পরিচিত। পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর নামে রয়েছে আরো দুইটি পুকুর যা মূল ভবনে পিছনের দিকে অবস্থিত।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

”মহেরা জমিদার বাড়িতে” যেসব ভবন গুলো অবস্থিত

চৌধুরী লজ: মূল গেইট দিয়ে জমিদার বাড়ি প্রবেশ করার পরেই চৌধুরী লজের দেখা পেয়ে যাবেন। ভবনটি গোলাপি রঙের এবং পিলার গুলো রোমান স্থাপত্য রীতিতে গঠন করা হয়েছে। সুন্দর নকশাখচিত ভবনের ভেতরে রয়েছে ঢেউ খেলানো ছাদ। এই ভবনটি দোতলা তার সামনে আছে একটি বাগান এবং সবুজ মাঠ।

মহারাজ লজ: বাইজেনটাইন স্থাপত্য রীতিতে গঠিত মহারাজ লজ ভবনের সামনে রয়েছে ৬ টি কলাম। সামনের বাঁকানো সিঁড়ির রেলিং এবং ঝুলন্ত বারান্দা গোলাপি রঙের মহারাজ লজের রুপ বাড়িয়ে তুলে। মোট ১২ টি কক্ষ, সামনে বাগান এবং পেছনে একটি টেনিস কোর্ট রয়েছে ভবনটিতে। শুটিং স্পট হিসেবে এই ভবনটি ব্যবহৃত হয়।

আনন্দ লজ: মহেরা জমিদার বাড়ির আনন্দ লজ ভবনটি হচ্ছে সব থেকে আকর্ষণীয় এবং সুন্দর। ৮ টি মনোরম কলাম রয়েছে নীল ও সাদা রঙের ভবনটির সামনে। তৃতীয় তলায় অবস্থিত ঝুলন্ত বারান্দা এই ভবনকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। আনন্দ লজের সামনে হরিণ, বাঘ ও পশু-পাখির মূর্তিসহ একটি মনোরম বাগান আছে।

কালীচরণ লজ: জমিদারী নীতি নীরসের শেষের দিকে গঠিত কালীচরণ লজ অন্য ভবন থেকে অনেক আলাদা। ইংরেজি ‘ইউ’ অক্ষরের মত এই ভবনটি ইংরেজ স্থাপত্যতুল্য রীতিতে তৈরি। বিকালের দিকে ভবনের ভেতর থেকে সুন্দর আলোর চমকানি দেখা যায়।

এই ভবনগুলো ছাড়াও মহেরা জমিদার বাড়িতে আরও রয়েছে নায়েব ভবন, কাচারি ভবন ও রানী মহল।

”মহেরা জমিদার বাড়ি” প্রবেশ ফী

মহেরা জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে ৮০ টাকা টিকেট ফী দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। আপনি চাইলে সেখানে বোট রাইড করতে পারবেন তবে তার জন্য দর দাম করে নিন কারণ ছুটির দিনগুলোতে দাম অনেক বেড়ে যায়।

মহেরা জমিদার বাড়ি,মহেরা জমিদার বাড়ি,মহেরা জমিদার বাড়ী,টাঙ্গাইল,মহেড়া জমিদার বাড়ি,জমিদার বাড়ি,নাটিয়াপারা জামিদার বাড়ি,মহেরা জমিদার বাড়ির ইতিহাস,মহেরা,মহেরা জমিদার বাড়ী

”মহেরা জমিদার বাড়ি” কিভাবে যাবেন

আপনাকে টাঙ্গাইল জেলার নটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে মহেড়া জমিদার বাড়ি দেখতে হলে। ঢাকা হতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাসে করে যেতে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকা টাঙ্গাইল রোডে প্রায় সব সময়ই জ্যাম লেগে থাকে তাই ওইরকম সময় করে রওনা করবেন যাতে করে আপনাকে জ্যামে না পরতে হয়।

ঢাকা মহাখালী বাস স্ট্যান্ড হতে বিনিময়, ঝটিকা, ধলেশ্বরী ইত্যাদি বাস টাঙ্গাইল রুটে চলাচল করে থাকে। এই বাসগুলোর ভাড়া জনপ্রতি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা করে পড়বে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোন বাসে করে নাটিয়াপাড়া বাস ষ্ট্যান্ডে আসতে পারবেন। নাটিয়াপাড়ায় বাস থেকে নেমে সিএনজি, রিকশা অথবা বেবী টেক্সী ভাড়া করে মহেরাপাড়া পুলিশ প্রশিক্ষন কেন্দ্রে চলে আসতে হবে। বর্তমানে মহেরা জমিদার বাড়িটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আর যদি আপনি মাহাখালী হতে নিরালা বাসে করে আসেন তবে ডুবাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে নামলে আপনার সুবিধা হবে যার ভাড়া ১৬০ টাকা করে জনপ্রতি। সিএনজি ভাড়া করে ডুবাইল থেকে মহেড়া জমিদার বাড়ি যেতে জনপ্রতি ১৫ টাকা করে ভাড়া লাগবে এবং যদি রিজার্ভ নিতে চান তাহলে ভাড়া নিবে ৭৫ টাকা।

তাছাড়া আপনি বাংলাদেশের যেখানে থাকেননা কেনও আপনাকে প্রথমে টাঙ্গাইল আসতে হবে। যেভাবে আপনার সুবিধা হবে সেভাবে টাঙ্গাইল চলে আসুন। টাঙ্গাইলের নটিয়াপাড়া এসে উপরে প্রদান করা উপায়গুলো লক্ষ করলে আপনি মহেরা জমিদার বাড়ি ভ্রমণ করতে পারবেন খুব সহজে।

তাছাড়া আপনি চাইলে ট্রেনে করেও যেতে পারেন। তবে তার জন্য একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে যে ঢাকা হতে উত্তরবঙ্গগামী কোন ট্রেন মহেরা স্টেশন অথবা টাঙ্গাইল স্টেশনে স্টপেজ দেয় কিনা। আর যদি উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চান তাহলে আসার সময় জেনে নিবেন কোন ট্রেন মহেরা স্টেশন অথবা টাঙ্গাইল স্টেশন এ স্টপেজ দেয় কিনা। যদি এমন কোন ট্রেন পেয়ে যান তাহলে টিকেট কেটে চলে আসুন।

”মহেরা জমিদার বাড়ি” কোথায় থাকবেন

মহেরা জমিদার বাড়িতে চাইলে আপনি আপনার পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতে পারবেন সেখানে থাকার জন্য সুব্যবস্থা রয়েছে। তবে প্রত্যেক রাতের জন্য আপনাকে ৩০০০-১০০০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।

”মহেরা জমিদার বাড়ি” কোথায় খাবেন

মহেরা পুলিশ প্রশাসন কেন্দ্রে একটি ক্যান্টিন অবস্থিত সেখান থেকে অল্প টাকায় খাবার খেয়ে নিতে পারবেন। তবে সেখানে খেতে হলে আপনাকে আগে থেকে অর্ডার করে দিতে হবে। তাই আপনার পছন্দ মত খাবার নির্ধারণ করে অর্ডার করে দিলে খুব সহজে খাবার সেরে ফেলতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

মহেরা জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হয় কারণ সেখানে পুলিশ ট্রেনিং একাডেমীর কর্মসূচী চালু রয়েছে। তাই আগে অনুমতি নিবেন তারপর প্রবেশ করবেন।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here