লটকন ফল,লটকন,লটকন গাছ,লটকন চাষ পদ্ধতি,লটকন চাষ,লটকন চারা,লটকন বাগান,লটকন ফলের উপকারিতা,নরসিংদী,লটকন এর উপকারিতা,ডেউয়া,লটকন বাগান।,লিছু বাগান,আমার লটকন বাগান,লটকন ফল কেমন

”লটকন বাগান” পরিচিতি

টক-মিষ্টি স্বাদের একটি ফল যা প্রায় সবার কাছে পছন্দের তার নাম লটকন(Lotkon)। আর নরসিংদী জেলা লটকনের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি লটকন চাষ করা হয়ে থাকে নরসিংদীর শিবপুর ও মরজাল এলাকায়। রাস্তার দুই পাশে শিবপুর উপজেলার ছোটাবান্দা গ্রামে ছোট বড় অসংখ্য লটকন বাগান দেখতে পাওয়া যায়।গাছগুলোর গোড়া থেকে শুরু করে শাখা প্রশাখা এবং উপশাখায় ঝুলে থাকে থোকায় থোকায় পাকা লটকন। তবে মালিকের কাছ থেকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে কোন বাগানে প্রবেশ করতে চাইলে। প্রায় সব বাগানের মালিকই খুব আন্তরিক হয়ে থাকে এবং নিজ আগ্রহ নিয়ে দর্শনার্থীদের নিজেদের বাগান ঘুরে দেখায়। বাগানের মালিকের সাথে কথা বলে নিজ হাত দিয়ে গাছ থেকে লটকন পেড়ে তার স্বাদ নিতেন পারবেন।

তাছাড়া উয়ারি বটেশ্বর, রায়পুর, যশোর, আগরপুর, মাকাল্লা, ভিটিখৈনকুট, দক্ষিণ কামালপুর, নৌকাঘাটা, লালখারটেক, ভাঙ্গারটেক সহ নরসিংদীর আশেপাশের প্রায় সব গ্রামেই লটকনের বাগান রয়েছে। শহরের কাছাকাছি লটকন বাগানগুলোতে যেতে চাইলে স্থানীয় কারো কাছে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দিবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল বাজার, সৃস্টিগড় বাজার, শিবপুরের কামারটেক বাজার, চৈতন্য বাজার ও গাবতলী বাজারে লটকন বিক্রির হাট বসে থাকে। লটকন বাজার ঘুড়ে দেখার পর লটকন কিনে নিতে পারবেন খুব সহজে। ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে ভিন্ন রকম এক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠে লটকন বাগানে ঘুরতে যাওয়ার মাধ্যমে।

”লটকন বাগান” যেভাবে যেতে হয়

ঢাকা থেকে নরসিংদী ট্রেন বা বাসে করে যাওয়া যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ, গুলিস্থান বা আব্দুল্লাপুর থেকে ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাসে কাঁচপুর ব্রিজ পার হয়ে মরজাল বাস স্ট্যান্ড বা সৃষ্টিগড় নামতে হবে। অটো বা রিকশা ভাড়া করে মরজাল বা সৃস্টিগড় থেকে আশেপাশের লটকন বাগানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন। আর রেলপথে যেতে চাইলে, ঢাকার কমলাপুর রেলষ্টেশন হতে ট্রেন দিয়ে নরসিংদী যেতে পারবেন তার জন্য আগে থেকে টিকেট কেটে নিতে হবে। তাদের মধ্যে মহানগর এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ও এগারোসিন্দুর গোধূলির মতো ট্রেনে করে ১ ঘণ্টায় নরসিংদী যাওয়া যায়। নরদিংদী স্টেশন হতে ভেলানগর বাস স্ট্যান্ড নেমে লেগুনা অথবা বাসে মরজাল বাস স্ট্যান্ড গিয়ে অটোরিকশায় মরজাল এবং উয়ারি বটেশ্বর এলাকায় অবস্থিত লটকন(Lotkon) বাগানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন।

”লটকন বাগান” কোথায় থাকবেন

ঢাকা থেকে যদি নরসিংদী যান তাহলে সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যেই আবার চলে আসতে পারবেন। তাছাড়া নরসিংদী জেলায় বেশকিছু কতেজ/রেস্ট হাউজ অবস্থিত চাইলে সেখানে থাকতে পারবেন। তাদের মধ্যে সার্কিট হাউজ, ইব্রাহীম কটেজ, এলজিডির রেস্ট হাউজ এবং জেলা পরিষদের ডাক বাংলোয় রাতে থাকতে পারবেন।

”লটকন বাগানে” কি এবং কোথায় খাবেন

নরসিংদী জেলায় অবস্থিত বাবুর্চি আলমগির হোটেল, ফাল্গুনি হোটেল, বন্ধু হোটেল এবং খোকন হোটেল সহ বিভিন্ন ধরনের বেশকিছু খাবার হোটেল রয়েছে। জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে নরসিংদীতে রয়েছে রসগোল্লা, খিরমোহন, লালমোহন এবং শাহী জিলাপি ইত্যাদি। এইসব কিছুর স্বাদ নেওয়ার পর হাতে সময় থাকলে ভেলানগরের সুস্বাদু মালাই চা পান করে দেখতে পারেন আশা করি খুব ভালো লাগবে।

”লটকন বাগান” টিপস ও সতর্কতা

  • মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত লটকন বাগান পরিদর্শন করার ভালো সময়। জুলাই মাসের পর গেলে লটকন(Lotkon) বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেননা।
  • ১০-১৫ জনের গ্রুপ করতে পারলে মাইক্রো ভাড়া করে সৃষ্টিগড় হয়ে চৈতন্য, কুণ্ডপাড়া, নৌকা ঘাটা এবং বেলাবোর লটকন বাগানগুলো খুব সহজে ঘুরে দেখতে পারবেন এতে করে সময় বাঁচবে।
  • বাগান মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোন বাগানে ঢুকবেন না ও ফল নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
  • একটি অটো রিকশা ভাড়া করে সেই চালকের কোন পরিচিত লটকন বাগানে যেতে পারেন।
  • সবকিছু দেখার পর মরজাল বাজার থেকে লটকন কিনে তারপর উয়ারি বটেশ্বর দিয়ে বের হবেন।
  • নরসিংদী যাবার সময় পাঁচদোনায় নামবেন না কারণ এতে আপনার বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হবে।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here