ধুপপানি ঝর্ণা,রাঙ্গামাটি,শুভলং ঝর্ণা,কাপ্তাই লেক,ধুপপানি ঝর্না,ধুপ্পানি ঝর্না,রাঙামাটি,কাপ্তাই,ধুপপানি,রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড,বিলাইছড়ি,ধুপপানি বিলাইছড়ি,মুপ্পোছড়া ঝর্না,ভ্রমণ

”ধুপপানি ঝর্ণা” পরিচিতি

ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়ি, বিলাইছড়ি উপজেলা, রাঙ্গামাটি জেলায় মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই অপরুপ ধুপপানি ঝর্ণা(Dhuppani Waterfall)। এক বৌদ্ধ ধ্যান সন্ন্যাসী ২০০০ সালের দিকে এখানে ধ্যান করা শুরু করেছিলেন, স্থানীয় মানুষের দ্বারা পরবর্তীতে এই ঝর্ণা সবার কাছে পরিচিতি লাভ করে। ধুপপানি শব্দের অর্থ তঞ্চঙ্গ্যা তাই ধুপপানি ঝর্ণার মানে হচ্ছে সাদা পানির ঝর্ণা। ধুপপানি ঝর্ণার উচ্চতা ভূমি থেকে প্রায় ১৫০ মিটার। এই ধুপপানি ঝর্ণার আসেপাশে অবস্থিত বুনো শুকর, বনবিড়াল, হরিণ এবং ভাল্লুক সহ অনেক বন্য প্রাণী। ধুপপানি ঝর্ণার পানি আছড়ে পড়ার শব্দ প্রায় ২ কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায়।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

”ধুপপানি ঝর্ণা” দেখতে কিভাবে যাবেন

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই লেক আসার ঢাকায় অনেক বাস সার্ভিস আছে। আপনার সুবিধা হবে এমন সময়ে পছন্দের বাসে করে চলে যেতে পারবেন। তারপর কাপ্তাই লেকের লঞ্চঘাট থেকে ট্রলার/বোট ভাড়া করে বিলাইছড়ি যেতে পারবেন। বিলাইছড়ি যেতে সময় লাগে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। ট্রলার বা বোট যদি রিজার্ভ ভাড়া করতে চান তাহলে খরচ পড়বে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। অথবা লোকাল ট্রলারে করেও চাইলে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে কাপ্তাইঘাট থেকে জনপ্রতি ৫৫ টাকা ভাড়ায় সকাল ৮ টা ৩০ মিনিট, দুপুর ১ টা এবং ১ টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারে করে যেতে হবে। বিলাইছড়ি থেকে ২ ঘন্টা ট্র্যাকিং করে উলুছড়ি যেতে হবে। তারপর উলুছড়ি থেকে অবশ্যই একজন গাইড ঠিক করে নিতে হবে তা না হলে যেতে পারবেননা। গাইড ফি ৫০০ টাকা লাগতে পারে আলোচনা সাপেক্ষ্যে দরদাম করে নিবেন তারা আপনার কাছে বেশি চাইতে পারে। বিলাইছড়ি বাজার থেকে আপনাদের ইচ্ছে হলে খাবার খেয়ে নিতে পারেন অথবা সাথে করে কিছু নিয়ে যেতে পারেন।

কোষা নৌকা করে উলুছড়ি থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি পাড় হয়ে তারপর ট্রেকিং করে ধুপপানি পাড়ায় পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত সময় লাগবে। খালি পায়ে অথবা ভাল মানের ট্রেকিং জুতা পড়ে ট্রেকিং করবেন। ধূপপানি ঝর্ণা(Dhuppani Waterfall) অবস্থিত ধুপপানি পাড়া থেকে পাহাড়ি ঢালের প্রায় ২০০ মিটার নিচে। ধুপপানি ঝর্নায় পৌঁছাতে ৩০ মিনিট সময় লাগবে ধুপপানি পাড়া থেকে যেতে।

”ধুপপানি ঝর্ণায়” কোথায় থাকবেন

বিলাইছড়িতেই রাতের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতাল ঘাটের নিরিবিলি বোর্ডিংয়ে উঠতে পারবেন যদি ট্রলার বা বোট রিজার্ভ করে যান। এইখানে ৩০০ টাকায় সিঙ্গেল এবং ৫০০ টাকায় ডাবল বেডের রুম পেয়ে যাবেন। নিরিবিলি বোর্ডিংয়ের মালিক সঞ্জয় তালুকদারের ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।
মোবাইল: 01827-722905, 01553-128673

আর যদি আপনার থাকার ইচ্ছা না হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কাপ্তাই থেকে বিলাইছড়ির উদ্দেশ্যে সকাল ৬ টার মধ্যে রওনা দিতে হবে।

”ধুপপানি ঝর্ণায়” কোথায় খাবেন

বেশকিছু খাবারের হোটেল বিলাইছড়ি বাজারে রয়েছে। কম দামে ও মোটামুটি ভালো খাবার পেয়ে যাবেন ভাতঘর এবং বকুলের দোকান নামে দুইটি খাবারের হোটেলে।

ধুপপানি ঝর্ণা,ধুপপানি,কাপ্তাই,ধুপপানি ঝর্না,ধুপ্পানি ঝর্না,রাঙ্গামাটি,ধূপপানি ঝর্ণা,কাপ্তাই লেক,বিলাইছড়ি,ঝর্না,মুপ্পোছড়া ঝর্না,বিলাইছড়ি ঝর্না,বিলাইছড়ি ঝর্ণা,ধুপ্পানি

রাঙ্গামাটির অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো

রাঙ্গামাটির দর্শনীয় উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো

“ধুপপানি ঝর্ণা” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • গ্রুপ করে যাওয়ার চেষ্টা করুন তাহলে খরচ কম হবে।
  • পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় সবাই এখানে প্রবেশ করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড অথবা যেকোন প্রতিষ্ঠানের ফটো আইডি কার্ড সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
  • বিলাইছড়ি যাওয়া আসার পথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অবশ্যই আপনাকে যেকোনো একটি পরিচয়পত্র দেখাতে হবে বা জমা দিতে হবে।
  • ট্র্যাকিং করার সময় অনেক জায়গায় পিচ্ছিল থাকে তাই অবশ্যই ভালো মানের ট্র্যাকিং জুতা পরে যাবেন এবং ট্র্যাকিং এর সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
  • যথাসম্ভব ঝর্ণায় হৈচৈ করা থেকে বিরত থাকবেন এবং স্থানীয় মানুষদের সাথে ভদ্র ও মার্জিত আচরণ করুন।
  • কিছু কিনতে বা খাবার খেতে হলে দরদাম করে নিবেন এতে করে আপনার খরচ বাঁচবে।
  • হোটেল বা রিসোর্ট, বোট বা নৌকা এবং অন্যান্য যানবাহন ভাড়া করার সময় দরদাম করে নিবেন কারণ আপনার কাছে চালকরা বেশি দাম চাইবে।
  • দিন যতই যাবে সব কিছুর দাম ততই পরিবর্তন হতে থাকবে তাই যাওয়ার আগে অবশ্যই সব কিছু যাচাই করে যাবেন এবং আমাদের দেওয়া হোটেল বা রিসোর্ট ও রেস্টহাউজগুলোর ফোন নম্বরে কল করে থাকার ব্যবস্থা করে যাবেন যদি রাতে থাকতে চান।
  • পাহাড়ে চড়ার সময়, কোন যানবাহনে চড়ার সময়, পানিতে নামার সময় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
  • কোথাও তাড়াহুড়া করে কোন কাজ করবেননা কারণ সময় থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
  • সাথে সব সময় পর্যাপ্ত পানি, হালকা কিছু খাবার এবং জরুরী প্রয়োজনীয় ঔষধ রাখবেন।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here