Corona Virus Live Update

করোনা ভাইরাস,#করোনা_ভাইরাস,করোনা ভাইরাস কি,করোনা ভাইরাস শেষ,সর্বশেষ সংবাদ,নভেল করোনা ভাইরাস,বাংলা টিভি চ্যনেল,যমুনা নিউজ,চ্যানেল আই,চ্যানেল আই সংবাদ,#করোনা,চ্যানেল আই নিউজ,COVID-19

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণ, করণীয়, গুরুত্বপূর্ণ সকল তথ্য এবং লাইভ আপডেট

জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে আজ থেকে বিডি ট্রাভেলার গাইড টিম চেষ্টা করবে করোনা ভাইরাস (corona virus) নিয়ে বাংলাদেশেরে বর্তমান অবস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বাংলাদেশের সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (IEDCR) এর যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরামর্শ আপডেট প্রদান করার।

“করোনা ভাইরাসের” পরিচিতি

প্রাণী বা মানুষের দেহে অসুস্থতার কারণ হতে পারে এমন ভাইরাসগুলির একটি বৃহৎ পরিবার করোনা ভাইরাস (corona virus)। বিভিন্ন করোনা ভাইরাস মানব দেহে সাধারণ সর্দি কাশি থেকে শুরু করে মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের রোগ তৈরি করতে পারে। যেমনঃ মধ্য প্রাচ্যের রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (এমাআরএস) এবং গুরুত্বর তীব্র শ্বাসতন্ত্র সিন্ড্রোম (এমাআরএস) এর মতো আরও মারাত্মক রোগ থেকে শুরু করে শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রামণ ঘটায় বলে জানা যায়। অতি সম্প্রতি সন্ধান পাওয়া করোনা ভাইরাস রোগ “COVID-19” তৈরি করে।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

“COVID-19” কি

অতি সম্প্রতি আবিষ্কৃত হওয়া করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রামক রোগ এর নাম “COVID-19”। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত এই নতুন ভাইরাস ও রোগটি অজানা ছিল।

আপডেট নিউজ

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বমোট করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। তাদের ২ জনের বয়সই ৭০+। মার্চের ১৮ এবং ২১ তারিখ তাদের মৃত্যু হয়েছে। ১ম জন নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে সমস্যা, ফুসফুসে সমস্যা এবং হার্টের সমস্যা। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৫ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশকে করোন ভাইরাস (corona virus) প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে তালাবন্ধে যেতে (lockdown) এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পরামর্শ দিয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে হয়তো আমাদের সরকার তা ঘোষণা দিয়ে দিবে।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর তথ্য মতে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১৮৩ টি দেশে করোনা ভাইরাস (corona virus) আক্রান্ত করেছে। সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৬০৭৩ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১১৮৪ জনের এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন প্রায় ৮৯৯০৮+ জন।

১৮৩ টি দেশের করোনা ভাইরাসের লাইভ চার্ট

“করোনা ভাইরাস” যেভাবে ছড়ায়

ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের কাছ থেকে অন্যরা সংক্রমিত হয়। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির সময় নাক বা মুখ থেকে নির্গত ছোট ছোট সুক্ষ্মকণার মাধ্যমে এই রোগটি একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশির নিঃসৃত ফোটাগুলি, লালা, থুথু, কফ বা সর্দির ফোটা যেসব স্থানে লাগে তা কোনভাবে যদি সুস্থ ব্যাক্তির মুখ, নাক বা চোখ দিয়ে বা নিশ্বাসে গ্রহণ করলে ভাইরাস সংক্রমিত হয়। আবার এই ফোটাগুলি ব্যক্তির চারপাশের কোন বস্তু এবং পৃষ্ঠের উপর পরে। অন্যরা এই বস্তু বা পৃষ্ঠগুলিতে স্পর্শ করে তাদের চোখ, নাক মা মুখ স্পর্শ করলে COVID-19 এ আক্রান্ত হয়।

বাংলায় অনুবাদ করা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ছবি লিংক থেকে ডাউনলোড করে দেখতে পারেনঃ ডাউনলোড লিংক

“করোনা ভাইরাসে” আক্রান্তের লক্ষণ

ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর সংক্রমের লক্ষণ দেখা দিতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ১৪ দিন। সাধারণত লক্ষণগুলো হলো জ্বর, ক্লান্তি, শুকনো কাশি। আবার কিছু রোগীর শরীর ব্যথা, সর্দি এবং নাক বন্ধ হওয়া, গলা ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। ধীরে ধীরে সেই সাথে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বয়স্ক ব্যাক্তিরা এবং যাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, কিডনি সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ আছে তাঁদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যাদের জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট আছে তাঁদের চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।

“করোনা ভাইরাসের” সংক্রমণ সুরক্ষায় যা যা করনীয়

এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন। এসব সতর্কতা অবলম্বন করলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা কিছুটা কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত।

  • বারবার প্রয়োজন মতো সাবান পানি অথবা অ্যালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে (কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড)। বাহির থেকে আসার পর, জীবাণু আছে এমন কিছু ধরার পর, আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে আসার পর, সর্বক্ষেত্রে আপনার হাত ভাইরাস মুক্ত রাখতে হবে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঠেকাতে বিশেষজ্ঞদের এই উপদেশ অবশ্যই মানতে হবে।
  • হাত দিয়ে মুখ, নাক ও চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ হাত দিয়ে অনেক জিনিস স্পর্শ করা হয় এবং তাতে ভাইরাস হাতে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। হাতে ভাইরাস থাকলে তা মুখ, নাক বা চোখে স্পর্শ করলে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। মনে রাখবেন শুধু করোনা ভাইরাসই না যেকোন ভাইরাস মানব দেহে প্রবেশের রাস্তা একই নাক, চোখ, মুখ। তাই স্পর্শ করার আগে অবশ্যই ভাল করে হাত ধুয়ে নিন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি বা আক্রান্ত হতে পারেন এমন সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন কম করে ১ মিটার (৩ ফিট) দূরে থাকুন। শুধু আক্রান্ত ব্যক্তি না সম্ভব হলে সবার কাছ থেকেই দূরত্ব বজায় কথা বলা বা হাটাচলা করার চেষ্টা করুন।
  • আক্রান্ত হলে হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখতে হবে। যেখানে সেখানে কফ থুথু ফেলবেননা টিস্যু ব্যবহার করে যথাযথ স্থানে তা ফেলবেন।
  • যেসব জায়গায় মানুষের বেশি হয় সেসকল স্থান এড়িয়ে চলেন। সব ধরণের সভা সমাবেশ, মিছিল, সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে এড়িয়ে চলবেন। মোট কথা মানুষের ভিড়ে যাওয়া থেকে একদমই বিরত থাকতে হবে।
  • গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে অবশ্যই। যদি কোনভাবেই সম্ভব না হয় তাহলে সতর্কতার সাথে চলাফেরা করুন এবং মাস্ক ব্যবহার করুন অবশ্যই।
  • অসংখ্য মানুষ স্পর্শ করে এমন কোন জিনিস স্পর্শ করবেন না। যেসব জিনিস সবায় মিলে ব্যবহার হয় তা হাত দিয়ে বা অন্য কোনভাবে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। পাবলিক অফিসের ডেস্কে বসার আগে কম্পিউটার, কিবোর্ড, মাউস এবং যাবতীয় সকল জিনিস জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন। লিফটের বাটন, রেলিং, পাবলিক স্পেসের দরজার হাতল, নব, হোটেল রেস্টুরেন্টের গ্লাস, চায়ের কাপ এইসব জিনিসও একই তালিকাভুক্ত। মোটকথা কারও স্পর্শে ভাইরাস থাকতে পারে এমন কিছু ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকুন এবং স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
  • বাইরে থেকে এসে ঘরে প্রবেশের সময় নিজের পোশাক ও ব্যবহৃত সব কিছু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পরিবর্তনের চেষ্টা করুন। প্রয়োজন মনে করলে একবার ব্যবহার করা পোশাক পরিস্কার না করে আবার ব্যবহার করবেন না।
  • প্রতিনিয়ত স্পর্শ করেন নিজের এমন ব্যবহৃত জিনিস যেমন মোবাইল, মানিব্যাগ, পানির বোতল, গ্লাস, কলম, চায়ের চাপ ইত্যাদি যতদূর সম্ভব ভালো করে পরিস্কার করে ব্যবহার করুন।
  • মুখে মাস্ক পড়ে সামান্য সুরক্ষা পেয়ে যেতে পারে। করোনা ভাইরাসের তরল উৎস যেমন হাঁচি-কাশির ফোটা থেকে মাস্ক কিছুটা সুরক্ষা দিবে। এর মাধ্যমে ভাইরাসের অতি সূক্ষ্মকণা আটকানো একেবারে সম্ভব নয়। তবে যে ভাইরাসে আক্রান্ত তার অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন।
  • ব্যাংক নোট অথবা টাকায় নানা ধরণের জীবাণু থাকতে পারে। ফলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ব্যাংক নোটের মাধ্যমে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই টাকা পয়সা হাত দিয়ে ধরার পর হাত ধুয়ে নিন এবং সচেতন থাকুন।
  • কোলাকুলি করার মাধ্যমেও করোনা ভাইরাস (corona virus) ছড়াতে পারে। এজন্য কোলাকুলি থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দিছেন বিশেষজ্ঞরা।
  • ঘরের ভিতর এবং বাইরের জন্যে ব্যবহৃত জিনিস আলাদা ভাবে রাখুন। বাইরে যে সব পোশাক পরিধান করবেন তা ঘরের ভিতর ব্যবহার করবেন না। ঘরের জিনিসের সাথে বাইরের জিনিস মিশিয়ে ফেলবেননা।
  • বয়স্ক মানুষদের বিশেষ করে যিনি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত তাঁদের প্রতি অবশ্যই ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে। বয়স্ক মানুষ আক্রান্ত হলে তাদের মৃত্যুহার অনেক বেশি। তাই তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা অতান্ত জরুরী।

ভাইরাস একটি অদৃশ্য বস্তু তাই কিভাবে আপনাকে তা আক্রান্ত করবে আপনি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবেননা। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন সবকিছুর মূল হচ্ছে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা। হাত না ধুয়ে নিজের মুখমণ্ডল কোনভাবে স্পর্শ করবেন না। সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নিয়মিত ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এত নিয়ম কানুন হয়তো আপনার জন্য বিরক্তের কারণ হতে পারে। কিন্তু জানেনকি এই ভাইরাস একজনের কাছ থেকে অন্যজন সহজেই আক্রান্ত হয়। নিজের পরিবার, প্রিয়জন ও অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে যে বয়সেরই কেউ আক্রান্ত হোক না কেন খুব গুরুত্ব দিতে হবে। সারাবিশ্বের অবস্থাটা দেখুন এই ক্ষুদ্র জিনিসের জন্য হাজার হাজার প্রান যাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের দেশের স্বাস্থ্য সেবার মানের বিবেচনায় রোগটি সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই সবার উচিত সচেতন থাকা। নিজ, পরিবার ও অন্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করা। নিজে সুরক্ষিত থাকুন এবং অন্যকে সচেতন করুন আপাতত বেঁচে থাকতে এইটুকু আমাদের সবার করনীয়।

কোয়ারান্টাইন, হোম কোয়ারান্টাইন ও আইসোলেশন কি?

কখন কোয়ারান্টাইনের ব্যবহার করবেন এবং করনীয়

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আছে এমন কারো সংস্পর্শে গিয়েছেন অথবা আপনার মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে তাহলে আপনার জন্য কোয়ারান্টাইন প্রযোজ্য। আর কারো যদি করোনা ভাইরাস পজেটিভ হয়ে থা্কে তাহলে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে যেতে হবে। কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়-

  • নিজের রুমে সম্পূর্ণ একা থাকুন।
  • আলাদা টয়লেট ব্যবহার করুন।
  • নিজের ব্যবহারের পোশাক, তাওয়াল আলাদা রাখুন।
  • অন্যের সাথে সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলুন এবং পরিবারের সদস্যদের থেকেও এড়িয়ে চলুন।
  • প্রয়োজনে কারো সামনে যেতে হলে মাস্ক পরে থাকবেন এবং যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখবেন কমপক্ষে ১ মিটার (৩ ফিট) দূরে থেকে।
  • ঘন ঘন হাত ধুবেন এবং যেকোন জিনিস যেমন দরজা, জানালা, পানির বোতল বা গ্লাস ইত্যাদি স্পর্শ করার সময় টিসু, কাপড় বা রোমাল দিয়ে অবশ্যই স্পর্শ করবেন।
  • যেসব জায়গায় বারবার স্পর্শ করবেন, যেমন- মোবাইল, কম্পিউটার, দরজার হাতল ইত্যাদি দিনশেষে ভালভাবে জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে ফেলুন এবং যে রুমে থাকবেন সেই রুম প্রতিনিয়ত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করবেন।
  • অন্যান্য যেসব স্বাস্থ্যবিধি গুলো রয়েছে তা মেনে চলবেন।

“করোনা ভাইরাসে” আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিবেন কি?

ভাইরাসটি যেহেতু নতুন তাই এখনও কোন প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার হয়নি। এমনকি এটার নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসাও নেই, যা থেকে এই রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। আপাতত এই রোগ প্রতিকার হিসেবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ যেতে না করেছেন বিজ্ঞানীরা। ডাক্তারদের পরামর্শ, বারবার হাত ধোয়া অথবা অ্যালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যাবহার করা এবং হাত দিয়ে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ না করা।

জ্বর আসলেই যে আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এমনটা নয়। যেহেতু জ্বর যেকোন কারণে হলেই হতে পারে। তাই অবশ্যই আগে ভাল করে লক্ষ করুন করোনা ভাইরাসের সবগুলো লক্ষণ আপনার মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে কিনা। বিশেষ করে শ্বাস কষ্ট হচ্ছে কিনা, গলা ব্যথা হচ্ছে কিনা। যদি জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ও জরুরী প্রয়োজনে হটলাইন নাম্বার গুলোতে যোগাযোগ করুন।

একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, শুধু সন্দেহের বশে অযথা হসপিটাল গুলিতে ভিড় করবেনা। এতে করে আক্রান্ত কোন রোগীর সংস্পর্শে এসে ভাইরাস ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা উপদেশ দিচ্ছেন যে করোনায় আক্রান্ত সংন্দেহ হলে প্রথমে কয়েকদিন নিজেকে পর্যবেক্ষন করুন। নিজেকে সেলফ কোয়ারান্টাইন বা হোম কয়ারান্টাইনে রাখুন। যদি করোনা ভাইরাস (corona virus) আক্রান্তের আরও লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে IEDCR অথবা জরুরী স্বাস্থ্যসেবার জন্যে যোগাযোগ করুন ও নিকটস্থত করোনা ইউনিট রয়েছে এমন হসপিটালে যোগাযোগ করুন।

জরুরী যোগাযোগের নাম্বার সমূহ

করোনা ভাইরাস (corona virus) সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্যে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আইইডিসিআর (IEDCR) সাথে যোগাযোগ করতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সেবা পেতে IEDCR এর সাথে যোগাযোগ করার হটলাইন নাম্বার সমূহ নিম্নোক্ত দেয়া হল।

০১৪০১-১৮৪৫৫১০১৪০১-১৮৪৫৫৪০১৪০১-১৮৪৫৫৫০১৪০১-১৮৪৫৫৬০১৪০১-১৮৪৫৫৯

০১৪০১-১৮৪৫৬০০১৪০১-১৮৪৫৬৩০১৪০১-১৮৪৫৬৮০১৯২৭-৭১১৭৮৪০১৯২৭-৭১১৭৮৫

০১৯৩৭-০০০০১১০১৯৩৭-১১০০১১০১৯৪৪-৩৩৩২২২০১৫৫০-০৬৪৯০১০১৫৫০-০৬৪৯০

আইইডিসি০১৫৫০-০৬৪৯০৩০১৫৫০-০৬৪৯০৪০১৫৫০-০৬৪৯০৫আর (IEDCR) ই-মেইলঃ iedcrcovid19@gmail.com

করোনা বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টারঃ ৬২৬৩১৬২৬৩ , ৩৩৩

যেসব হসপিটাল গুলোতে চিকিৎসা করা যাবে

  • মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।
  • কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, ঢাকা।
  • মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।
  • সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ঢাকা।
  • কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহজনক রোগীদের জন্য এখন পর্যন্ত এইসব হসপিটাল গুলো নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে।

কোথায় করোনা ভাইরাস সনাক্তের জন্য পরীক্ষা করবেন?

এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র ঢাকার IEDCR থেকেই করোনা ভাইরাস সনাক্তের পরীক্ষা করা হয়। আপনি IEDCR এর হটলাইন নাম্বার গুলোতে ফোন কল করে রোগী সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন। যদি তারা পরীক্ষা করার মত মনে করে তাহলে আপনাকে কি করতে হবে সেই ব্যাপারে পরামর্শ দিবে। অতি শিগ্রই IEDCR সহ আরও কিছু প্রতিষ্টানে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে। চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এ আগামী মঙ্গলবার থেকে করোনা সনাক্ত করার কিট আসবে বলা হচ্ছে।

যেভাবে সঠিক নিয়মে হাত ধোবেন

আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা সঠিক নিয়মে হাত ধুতে জানিনা। ভিডিওটি দেখে শিখে নিন কিভাবে সঠিক নিয়মে হাত ধুতে হয়।

যেভাবে সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করবেন

বর্তমানে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করা আমাদের সবার জন্য অনেক প্রয়োজণীয়। তাই সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করা শিখে নেই নিচের ভিডিওটি দেখে।

নিয়মিত যা যা খাবার খাবেন

যে সমস্ত খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় সে সব খাবার প্রতিদিন খেতে হবে। এইসব খাবার খেলে যেকোনো ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তারের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে খুব সহজেই। প্রতিদিন যা যা খাবার খাবেনঃ

  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল জাতীয় খাবার পান করবেন।
  • যে সকল সবুজ শাক সবজিতে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, মিনারেল ও ফাইবার রয়েছে সেসব শাক-সবজি খাবেন।
  • টক জাতীয় ফলে রয়েছে ভিটামিন সি যা সর্দি, কাশি, জ্বরের জন্য খুবই উপকারি। যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে ভিটামিন সি। তাই যেসব ফলে ভিটামিন সি রয়েছে সেসব ফল নিয়মিত খাবেন।
  • রসুনে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ঠান্ডা লাগা ও ইনফেকশেন দূর করতে দারুণ উপকার করে থাকে।
  • মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল। তাই প্রতিদিন এক চা চামচ মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • নিয়মিত টক দই খাবেন কারণ টক দই রোগের সাথে লড়াই করার অন্যতম হাতিয়ার।

প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য

করোনা ভাইরাস (corona virus) নিয়ে নানা রকম তথ্য বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা হচ্ছে। তার মধ্যে প্রায় অনেক তথ্যই ভুল ও ভিত্তিহীন ভাবে ছড়ানো হচ্ছে। তাই করোনা ভাইরাস নিয়ে যেকোন উপদেশ, পরামর্শ, করণীয় এবং সারাবিশ্বের বর্তমান অবস্থা জানতে সবসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এর ওয়েবসাইটের তথ্য দেখবেন।

WHO এর করোনা ভাইরাসের সকল তথ্যঃ https://bit.ly/2UbBHCA
WHO এর পরামর্শ ও করণীয়ঃ https://bit.ly/2vIa9LN

যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান IEDCR বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের সকল তথ্য সরবরাহ, নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষা করে। নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে পরামর্শ, করণীয়, ও তথ্যের জন্যে IEDCR এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

IEDCR এর করোনা আপডেটঃ https://bit.ly/2UmyOO0
বিশ্বব্যাপী লাইভ আপডেটঃ https://bdtravelerguide.com/corona-virus-update/

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ

  • খুব প্রয়োজন না হলে বাসার থেকে বের হবেননা।
  • কর্মক্ষেত্রে না যেয়ে বাসায় বসে কাজ করতে পারলে বাসায় বসে থেকেই কাজ চেষ্টা করুন।
  • সবার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখে চলুন।
  • নিয়মিত পরিস্কার পরিচন্ন থাকেন, সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই তা থাকতে হবে।
  • আবারও বলছি সবসময় হাত ভাল করে পরিস্কার রাখবেন।
  • কোন লক্ষণ দেখা গেলে নিজে হোম কোয়ারান্টাইন থাকুন। এতে করে আপনার আশেপাশের মানুষজন নিরাপদে থাকতে পারবে।
  • দরকারী হটলাইন নাম্বার ও প্রয়োজনীয় তথ্য গুলি সংগ্রহ করে রাখে দিন।
  • প্রয়োজনীয় দরকারী জিনিস বাসায় কিনে রাখুন।
  • মনে রাখবেন প্রয়োজনের বেশি কিছুই কিনে রাখবেন না যাতে করে অন্যরা সমস্যায় পরে যায়।
  • প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে রাখবেন।
  • বাসায় যারা অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ রয়েছে তাদের বিশেষ নজরে রাখুন।
  • মনে রাখবেন গুজবে কান দিবেন না, প্যানিকড হবেন না। অথেনটিক নিউজ দেখে তারপর কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন।
  • প্রয়োজন মনে হলে যথাযত কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবেন।
  • এমতাবস্থায় সরকারের একার পক্ষে সব কিছু সামলানো সম্ভব হবেনা। সবায় সবার অবস্থান থেকে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করবেন।

যেহেতু COVID-19 সম্পূর্ণ একটি নতুন ভাইরাস। এর বিস্তার এবং ভয়াবহতা সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে এখনো জানা সম্ভব হয়নি। তাই এই মুহুর্তে দেশের বাহিরে ও দেশে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। দেশে অথবা দেশের বাইরে যে কোন জায়গা ভ্রমণে যাবার পরিকল্পনা থাকলে তা বাতিল করেদিন।

নিরাপদে থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। আপনি ভালো থাকুন অন্যকেও ভালো থাকার জন্য সচেতন করুন। করোনা ভাইরাস নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন অথবা আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে মেসেজ করুন। আমরা সবসময় চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে। ধন্যবাদ।।।