কিশোরগঞ্জ,বালিখলা,হাওর,করিমগঞ্জ,নিকলী,বালিখোলা,নিকলী হাওর,হাওড়,রাস্তা,ভ্রমণ,নিকলি,কিশোরগঞ্জ হাওর,বালিখলা হাওর,অষ্টগ্রাম,ইটনা,নিকলি বেড়িবাঁধ,নিয়ামতপুর,বালিখলা হাওড়,বালিখোলা হাওর

”বালিখলা” পরিচিতি

কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলায় দেখা মিলবে হাওড়ের মাঝে রাস্তা, এবং রাস্তার দু পাশে অথৈ জলে ভেসে যাওয়া হাওড়। প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে নিয়ামতপুর করিমগঞ্জ এর রৌয়া থেকে – অপরূপ সৌন্দর্য ধরে রেখে এগিয়ে চলেছে হাওড়ের মাঝ দিয়ে যাওয়া বালিখলা(Balikhola) রাস্তা। এই রাস্তা বেশ উঁচু তাই বর্ষার পানিতে ডুবে যায়না। হাওড়ে নৌ ভ্রমণের মজাই আলাদা তাই বালিখলায় হাওড়ে নৌকা ভ্রমণ করার সুবিধাও রয়েছে। ঢাকা তার আশপাশ এলাকা থেকে চাইলে একদিনের মধ্যেই ঘুরে আসা যায়।

”বালিখলা” কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ বাসে করে যেতে চাইলে মহাখালী বাস স্ট্যান্ড হতে অনন্যা পরিবহণ বা অনন্যা ক্লাসিক বাসে করে যেতে পারবেন। সায়েদাবাদের গোলাপবাগ থেকেও চাইলে আসতে পারবেন। অনন্যা সুপার এবং যাতায়াত বাসগুলো সরাসরি কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করে। এই বাসগুলোর ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা করে। মহাখালী থেকে গেলে সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘন্টা এবং গোলাপবাগ থেকে গেলে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘন্টা। বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল (১৫টাকা) বা রিসার্ভ ইজিবাইকে (১২০ টাকা) চলে আসুন একরামপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে।

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ ট্রেনে করে যেতে চাইলে যেতে পারবেন সেক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই কিশোরগঞ্জ সদরে আসতে হবে। সকালের এগারোসিন্ধুর প্রভাতীতে করে আসতে পারেন এতে করে আপনার সুবিধা হবে। শ্রেণীভেদে ট্রেন ভাড়া ১২০-২০০ করে নিবে তবে তার জন্য আগে থেকে অনলাইনে কেটে নিতে পারেন তাহলে কষ্ট কম হবে। ট্রেনে করে যেতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘন্টা ৩০ মিনিট। রিকসা করে ১৫-২০ টাকা ভাড়ায় ট্রেন ষ্টেশন থেকে একরামপুর সিএনজি স্ট্যান্ড চলে আসুন।

কিশোরগঞ্জ শহর থেকে বালিখোলার দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার তাই একরামপুর সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া করে চলে যান বালিখোলায় সময় লাগবে ১ ঘণ্টা। সিএনজির রিজার্ভ ভাড়া পরবে ২৫০ – ৩০০ টাকা। ইজিবাইকে চড়েও যেতে পারবেন তাহলে সময় একটু বেশী লাগবে। তাছাড়া লোকাল ভাবে যেতে চাইলে যেতে পারবেন তারজন্য একরামপুর হতে চামটা বন্দর যায় এমন যেকোন সিএনজিতে উঠে নেমে যান নিয়ামতপুর বাজারে। সেখানে নেমে ইজিবাইকে ১ কিলো দূরে বালিখোলা রাস্তায় চলে যেতে পারবেন খুব সহজে। হাওড়ের মাঝের পুড়ো রাস্তার দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং রাস্তার শেষ মাথায় অবস্থিত বালিখোলা বাজার। নৌকা দিয়ে ঘুরতে হলে সেখান থেকে যেতে হবে।

”বালিখলায়” কি কি করবেন এবং একদিনে ঘুড়ে আসা যায়?

আপনার আগে থেকে ঠিক করে যেতে হবে যে কেমন সময় সেখানে কাটাবেন এবং কোথায় কোথায় ঘুড়ে দেখবেন। বালিখোলা রাস্তার শেষ প্রান্তে হাওড়ে ঘুড়ে দেখার জন্যে নৌকা পাওয়া যায়। নৌকার আয়তন অনুযায়ী প্রতি ঘন্টা ৩০০-৫০০ টাকা ভাড়ায় হাওড় ঘুড়ে দেখতে পারবেন। আপনি চাইলে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাড়ি মিঠামইন ঘুড়ে আসতে পারেন। তাহলে একসাথে হাওড় ঘুড়াও হবে আবার মিঠামইনও ঘুড়ে আসা হবে। বালিখোলা বাজার হতে নৌকা দিয়ে মিঠামইন যেতে এবং আসতে মোট সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মত। চাইলে কিশোরগঞ্জ শহরের লেকসিটি পার্ক, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ, পাগলা মসজিদ ঘুরে দেখুন যদি আপনার হাতে সময় থাকে।

ঢাকা অথবা তার আশেপাশ এলাকা থেকে আসলে একদিনেই বালিখলা ঘুড়ে আসতে পারবেন। একদিনের মধ্যে ঘুড়ে আসতে চাইলে আপনাকে খুব সকালে রওনা দিয়ে দিতে হবে। ঢাকা থেকে যেতে চাইলে সকালের ট্রেন অথবা মহাখালী থেকে অনন্য পরিবহণ বাসে সকাল ৭টার আগেই রওনা দিয়ে দিতে হবে তাহলে সকাল ১০-১১টার মধ্যেই কিশোরগঞ্জ পৌঁছে যেতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন যেভাবেই কিশোরগঞ্জ আসেন ফিরার সময় আপনাকে বাসে করেই যেতে হবে। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বাসের শেষ সময় সন্ধ্যা ৬ঃ৫০ মিনিটে তাই অবশ্যই আপনার সময়ের দিকে নজর রাখতে হবে। তাছাড়া আরেকটা কাজ করতে পারেন, বালিখোলা হতে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চামড়া/চামটা বন্দর চলে যেতে পারবেন সেটাও দেখার মত সুন্দর একটি জায়গা। চামটা বন্দর থেকে সরাসরি ঢাকার রুটে বাস চলাচল করে। কিন্তু তুলনামূলক ভাবে বেশ খারাপ এই বাস গুলোর সার্ভিস। যদি কোন কারণে সময় কম থাকে তাহলে সেখানে যেতে পারেন আর না হলে কিশোরগঞ্জ শহর থেকে যাবেন।

বালিখলা,কিশোরগঞ্জ,হাওর,করিমগঞ্জ,নিকলী,বালিখোলা,হাওড়,রাস্তা,ভ্রমণ,নিকলি,নিকলী হাওর,কিশোরগঞ্জ হাওর,বালিখলা হাওর,ইটনা,অষ্টগ্রাম,নিকলি বেড়িবাঁধ,নিয়ামতপুর,বালিখলা হাওড়,বালিখলা ভ্রমন

”বালিখলায়” কোথায় থাকবেন

বালিখলায় থাকার কোন ব্যবস্থা নেই তাই যদি কোন কারণে বা আপনি থাকতে চান তাহলে কিশোরগঞ্জ শহরে থাকতে হবে। ৮০০-১২০০ টাকা ভাড়ায় কিশোরগঞ্জ শহরে মোটামুটি মানের কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে সেখানে থাকতে পারবেন।

”বালিখলা” কোথায় খাবেন

বালিখোলায় তেমন কোন খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। কয়েকটি টং দোকান রয়েছে সেখানে চাইলে হালকা নাস্তা করে নিতে পারবেন। ভারি খাবার খেলে কিশোরগঞ্জ শহরেই খেয়ে নিবেন অথবা যাওয়ার সময় করিমগঞ্জ বাজারে চাইলে খেয়ে নিতে পারবেন। চামড়া বন্দরেও মোটামুটি মানের খাওয়ার হোটেল রয়েছে সেখানে গেলে ও খেয়ে নিতে পারবেন।

”বালিখলা” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • গ্রুপ করে যাওয়ার চেষ্টা করুন তাহলে খরচ কম হবে।
  • যেকোনো হাওড় এলাকায় ভ্রমণের ভালো সময় বর্ষাকাল তাই বালিখলা রাস্তার সুন্দর্য এবং হাওড়ের প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করতে বর্ষায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করুন।
  • সাধারণত জুলাই থেকে আগস্ট মাস সবচেয় ভালো সময় হাওড় ভ্রমণের।
  • যারা সাঁতার পারেন না তারা হাওড় ভ্রমণে সতর্ক থাকবেন, সাঁতার কাটতে না পারলে পানিতে নামবেন না।
  • আর যদি সাথে লাইফ জ্যাকেট থাকে তাহলে তা পরে নামতে পারেন।
  • যারা একদিনের মধ্যে ঘুড়ে আসবেন তারা অবশ্যই সময়ের প্রতি খেয়াল রাখবেন।
  • কোথাও তাড়াহুড়া করে কোন কাজ করবেননা কারণ সময় থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here