হ্যাপি আইল্যান্ড,রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই,আরন্যক,কাপ্তাই লেক,আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট,রাঙামাটি,রাঙামাটি ভ্রমণ,আরন্যক হলিডে রিসোর্ট,আরণ্যক,পলওয়েল পার্ক,টুনটুনিদের আসর

“হ্যাপি আইল্যান্ড” পরিচিতি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর রাঙ্গামাটি জেলার সংলগ্ন কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁষেই অবস্থিত হ্যাপি আইল্যান্ড(Happy Island) গড়ে উঠেছে। মনোরম পরিবেশে চমৎকার নির্মাণশৈলীর এই দ্বীপটি একটি ওয়াটার পার্ক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের উদ্যোগে প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় কাপ্তাই লেক পরিবেষ্টিত একটি টিলার উপর ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল এই সুন্দর ওয়াটার আইল্যান্ডটি উদ্বোধন করা হয়েছিল।

৪৫ একর জায়গা জুড়ে একটি বিশালাকৃতির মাছের আদলে বিনোদনের নানা ধরনের আয়োজন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে হ্যাপি আইল্যান্ড। এই পার্কে রয়েছে ওয়াটার রাইড, লেক ভিউ সুইমিং পুল এবং বোট রাইডিং সহ আকর্ষণীয় নানা উপকরণ। ফুলের গাছ দিয়ে সুশোভিত হ্যাপি আইল্যান্ড পার্ক এমন একটি জায়গা সব বয়সী মানুষের ভালো লাগার মতো। তাছাড়াও এখানে রয়েছে পিকনিক করার সকল সু-ব্যবস্থা, কফি শপ ও মৎস্য কন্যার ভাস্কর্য ইত্যাদি। বর্তমানে শিশু কিশোরসহ সকল বয়সী মানুষের বিনোদনের জন্য অন্যতম স্থান হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এই পার্ক।

“হ্যাপি আইল্যান্ড” সময়সূচী ও প্রবেশ

সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে থাকা আরণ্যক হলিডে রিসোর্টের অধীনে হ্যাপি আইল্যান্ড(Happy Island) পরিচালিত হচ্ছে। তাই হ্যাপি আইল্যান্ডে যেতে হলে প্রথমে আরণ্যক রিসোর্টে ঢুকতে হবে। আরণ্যক রিসোর্টে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা এবং বোট ভাড়াসহ হ্যাপি আইল্যান্ডের প্রবেশ টিকেট ফি জনপ্রতি ২০০ টাকা। সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে পার্কটি পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে।

হ্যাপি আইল্যান্ড,রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই,আরন্যক,কাপ্তাই লেক,আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট,রাঙামাটি,রাঙামাটি ভ্রমণ,আরন্যক হলিডে রিসোর্ট,আরণ্যক,পলওয়েল পার্ক,টুনটুনিদের আসর

“হ্যাপি আইল্যান্ড” কিভাবে যাবেন

ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলি ও কলাবাগান থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার অনেক ধরনের বাস পাবেন। বাসগুলো সচরাচর সকাল ৮টা থেকে ৯টা এবং রাত ৮.৩০ থেকে রাত ১১ টার মধ্যে রাঙ্গামাটির উদ্দ্যেশ্যে ছাড়ে যায়। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৯০০-১২০০ টাকা। রাঙ্গামাটি ক্যান্টনমেন্ট বাস থেকে নেমে মেইন রোড দিয়ে অটো বা সিএনজি করে আরণ্যক রিসোর্টের হ্যাপি আইল্যান্ড যেতে পারবেন খুব সহজে।

“হ্যাপি আইল্যান্ড” কোথায় থাকবেন

হ্যাপি আইল্যান্ডের আরণ্যক রিসোর্টে প্রতি রাতের জন্য রুম ভাড়া ৫,০০০-১০,০০০ টাকা। তাছাড়া রাঙ্গামাটিতে রাতে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল রয়েছে। যেমনঃ হোটেল প্রিন্স, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল মতি মহল, হোটেল জুম প্যালেস ও হোটেল গ্রিন। এছাড়াও ক্যাসেলের মতো অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে রাঙ্গামাটিতে। আপনি আপনার বাজেট এবং মন খুশি মত যেকোনো হোটেলে থাকতে পারবেন।

হ্যাপি আইল্যান্ড,রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই,আরন্যক,কাপ্তাই লেক,আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট,রাঙামাটি,রাঙামাটি ভ্রমণ,আরন্যক হলিডে রিসোর্ট,আরণ্যক,পলওয়েল পার্ক,টুনটুনিদের আসর

“হ্যাপি আইল্যান্ড” কোথায় খাবেন

হ্যাপি আইল্যান্ডে ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আপনি যদি রিসোর্টে অবস্থান করেন তাহলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবে। আপনি চাইলে বনরুপা বাজার বা ভেদভেদীতে খাবার হোটেল পাবেন। তাছাড়া রাঙ্গামাটি শহরে রয়েছে বেশকিছু খাবার হোটেল। তাদের মধ্যে স্পাইস রেস্তোরা, পাজন রেস্টুরেন্ট, ইরিশ রেস্টুরেন্ট এবং সাবারাং রেস্টুরেন্টের খাবার ভালো জনপ্রিয়।

রাঙ্গামাটিকে ঘিরে যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে

রাঙ্গামাটির অন্যতম দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে সাজেক ভ্যালী, কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত ব্রিজ, রাজবন বিহার, পলওয়েল পার্ক, শুভলং ঝর্ণা, হাজাছড়া ঝর্ণা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য স্থান।

“হ্যাপি আইল্যান্ড” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • গ্রুপ করে যাওয়ার চেষ্টা করুন তাহলে খরচ কম হবে।
  • কিছু কিনতে বা খাবার খেতে হলে দরদাম করে নিবেন এতে করে আপনার খরচ বাঁচবে।
  • হোটেল বা রিসোর্ট, বোট বা নৌকা এবং অন্যান্য যানবাহন ভাড়া করার সময় দরদাম করে নিবেন কারণ আপনার কাছে চালকরা বেশি দাম চাইবে।
  • দিন যতই যাবে সব কিছুর দাম ততই পরিবর্তন হতে থাকবে তাই যাওয়ার আগে অবশ্যই সব কিছু যাচাই করে যাবেন এবং আমাদের দেওয়া হোটেল বা রিসোর্ট ও রেস্টহাউজগুলোর ফোন নম্বরে কল করে থাকার ব্যবস্থা করে যাবেন যদি রাতে থাকতে চান।
  • ছুটির দিনে গেলে আগে থেকেই হোটেল বুকিং করে যাবেন কারণ ছুটির দিনে সচরাচর অনেক পর্যটক যায়।
  • ওয়াটার রাইডে চড়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
  • কোথাও তাড়াহুড়া করে কোন কাজ করবেননা কারণ সময় থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
  • সাথে সব সময় পানি বা হালকা কিছু খাবার রাখবেন।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here