সেন্টমার্টিন,সেন্টমার্টিন দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ,সেন্ট মার্টিন,ছেড়াদ্বীপ,নারিকেল জিঞ্জিরা,কক্সবাজার,সেন্টমার্টিন হোটেল,দারুচিনি দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খরচ

“সেন্টমার্টিন” পরিচিতি

সেন্টমার্টিন(Saint Martin) বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং এটি বাংলাদেশের সর্ব-দক্ষিণের ইউনিয়ন। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ১৭ বর্গ কিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। এ দ্বীপের অপর নাম নারিকেল জিঞ্জিরা।সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের আয়তন ১৯৭৭ একর (৮ বর্গ কিলোমিটার)। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ দ্বীপ টি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। অসীম নীল আকাশের সাথে সমুদ্রের নীল জলের সৌন্দর্য আপনাকে কাল্পনিক নিলম্বরীপুরে নিয়ে যাবে অপর দিকে সারি সারি নারিকেল গাছ এ দ্বীপকে অনন্য করেছে যা ভ্রমণ পিপাসুদের কে দূর্নিবার আকর্ষণে কাছে টেনে আনে। 

“সেন্টমার্টিনের দর্শনীয়” স্থানসমূহ

  • সমুদ্র সৈকত ;
  • ছেঁড়া দ্বীপ ;
  • মেরিন পার্ক’;
  • পাথরের মানুষ ও
  • বঙ্গোপসাগর ।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

”সেন্টমার্টিন” যেভাবে যাবেন

সেন্টমার্টিন(Saint Martin) যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই কক্সবাজার জেলার টেকনাফে যেতে হবে। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাবার উপায় ২ টি। আপনি টেকনাফ থেকে জাহাজ কিংবা ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যেতে পারেন। আপনি যদি ঢাকা থেকে সরাসরি যেতে চান সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে টেকনাফ নেমে জাহাজ/ট্রলার করে সহজেই যেতে পারেন। আপনার পরিকল্পনায় যদি কক্সবাজার ভ্রমণ ও থাকে তাহলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার হয়ে তারপর টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে পারেন।

সেন্টমার্টিন,সেন্টমার্টিন দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ,সেন্ট মার্টিন,ছেড়াদ্বীপ,নারিকেল জিঞ্জিরা,কক্সবাজার,সেন্টমার্টিন হোটেল,দারুচিনি দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খরচ

ঢাকা থেকে টেকনাফ

ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি টেকনাফে যাওয়া যাবে। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে শ্যামলি, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ঈগল, এস আলম, মডার্ণ লাইন, গ্রীন লাইন ইত্যাদি বাস সরাসরি টেকনাফে যায়। ১০-১২ ঘন্টার এই ভ্রমণ ভাড়া বাস ও ক্লাস অনুযায়ী সাধারণত ৯০০ থেকে ২০০০ টাকার মত। আপনার ভ্রমণ প্লানে যদি শুধু সেন্টমার্টিন (Saint Martin) থাকে তাহলে ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফ চলে যাওয়া টাই সবচেয়ে ভাল হবে। ঢাকা থেকে বাস রাত ৮-১০ টার মধ্যে রওনা দিয়ে সকাল ৮ টার মধ্যে টেকনাফে পৌঁছে যায়।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ

ঢাকা থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ যেতে চাইলে গ্রীনলাইন, সোহাগ, টি আর ট্রাভেলস, শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, ঈগল, এস আলম, সিল্ক লাইন, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি বাস সমূহ তে করে যেতে পারবেন সেক্ষেত্রে বাস ভেদে ভাড়া সাধারণত ১০০০০-২৫০০ টাকার মত হয়ে থাকে। এছাড়াও ঢাকা থেকে বিমান সরাসরি যায়। আপনি চাইলে বিমানে করেও যেতে পারেন। 

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ

কক্সবাজারCox’s Bazar) থেকে লোকাল বাস, মাইক্রো, জীপ, সিএনজি ইত্যাদি ভাড়া নিয়ে টেকনাফে যেতে পারবেন। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার বাস ভাড়া ১৫০ টাকা ও সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ টাকা। টেকনাফ যেতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা। সকলে বাস ধরতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ভোর ৬ টার মধ্যে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। 

চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ

চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ যেতে চাইলে সিনেমা প্যালেস থেকে এস আলম এবং সৌদিয়া বাসে করে রাত ১২ টার দিকে রওনা দিতে পারবেন। এছাড়া জিএসই গরিবুল্লাশাহ মাজার ও দামপাড়া থেকেও কিছু বাস চট্টগ্রাম-টেকনাফ রুটে চলাচল করে।

টেকনাফ থেকে ”সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন,সেন্টমার্টিন দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ,সেন্ট মার্টিন,ছেড়াদ্বীপ,নারিকেল জিঞ্জিরা,কক্সবাজার,সেন্টমার্টিন হোটেল,দারুচিনি দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খরচ

নভেম্বর-মার্চ মাস পর্যন্ত টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সকাল থেকে আসা-যাওয়া করে কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রুজ, এম ভি ফারহান, আটলান্টিক ইত্যাদি জাহাজ। জাহাজে করে যেতে চাইলে ২-২.৫ ঘন্টার মধ্যে সেন্টমার্টিন চলে যেতে পারবেন। জাহাজের শ্রেণি ভেদে যাওয়া-আসার টিকেট ভাড়া ৫৫০-১৫০০ টাকা। জেটি ঘাট থেকে প্রতিদিন জাহাজগুলো সকাল ৯.০০-৯.৩০ টার মধ্যে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং সেন্টমার্টিন(Saint Martin) থেকে ফেরত আসে বিকাল ৩.০০-৩.৩০ টায়। এজন্য সময়ের আগে জাহাজ ঘাটে পৌঁছাতে না পারলে জাহাজ মিস হবার সম্ভাবনা থাকে। আর এমন ক্ষেত্রে ট্রলারে করে ফেরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না যা অনেক বিপজ্জনক। সেন্টমার্টিন যাওয়ার জাহাজের টিকিট সাধারণত যাওয়া এবং আসার হয়ে থাকে তাই যাওয়ার সময় ফেরার সময় উল্লেখ করে টিকিট কাটবেন।

সাধারণত নভেম্বরের ১ তারিখে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়

সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ/এপ্রিল মাস পর্যন্ত জাহাজ চলে। এই সময় বাদে অন্য সময় ভ্রমণে গেলে ট্রলার কিংবা স্পিডবোট দিয়ে যেতে হবে। শীতকাল ছাড়া বাকি সময় সাগর উত্তাল থাকে, তাই এই সময়ে ভ্রমণ নিরাপদ নয়। তবে আপনি এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে উত্তাল সাগরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। টেকনাফ নামারবাজার ব্রিজ বা জেটি ঘাট থেকে ট্রলার, স্পিডবোট ১৫০-২৫০ টাকা নেয়। এটা সিজন ও যাত্রী ভেদে কমবেশি হয়ে থাকে। সময় লাগে প্রায় ৩ ঘন্টা।

”সেন্টমার্টিনে” কী কী খাবেন

সেন্টমার্টিন,সেন্টমার্টিন দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ,সেন্ট মার্টিন,ছেড়াদ্বীপ,নারিকেল জিঞ্জিরা,কক্সবাজার,সেন্টমার্টিন হোটেল,দারুচিনি দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খরচ

সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ফল হলে ডাব যা একাধারে মিষ্টি ও সুস্বাদু। সেন্টমার্টিন যাবেন আর ডাব খাবেন না এমন টা হতে পারে না। এছাড়া যারা মাছ খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য সেন্টমার্টিনে কোরাল, সুন্দরী পোয়া, ইলিশ, রুপচাঁদা, লবস্টার, কালাচাঁদা, ইত্যাদি নানান ধরনের ও স্বাদের বাহার নিয়ে অপেক্ষা করছে। বার-বি-কিউ পাগলদের জন্য সব হোটেলেই নিজের পছন্দ করা মাছের আলাদা করে বার-বি-কিউ করার সুযোগ রয়েছে। এখানে আরও যা খেতে পারেন তাহলো কুরা(দেশী মুরগী ), লইট্টা, ছুড়ি, রুপচাঁদা, কাচকি ইত্যাদি।

এছাড়াও যেসব হোটেল ও রেস্তোরাঁতে গিয়ে খেতে পারেন তার কয়েকটি হলো মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, হোটেল আল্লাহর দান, বাজার বিচ, আসমা হোটেল, সি বিচ, সেন্টমার্টিন, কুমিল্লা রেস্টুরেন্টে, রিয়েল রেস্তোরাঁ, হাজী সেলিম পার্ক, সেন্টমার্টিন টুরিস্ট পার্ক, হোটেল সাদেক ইত্যাদি। নিজ দায়িত্বে যাচাই-বাছাই করে খাবেন।

”সেন্টমার্টিনে” কোথায় থাকবেন

সেন্টমার্টিনে রাতে থাকার জন্য বেশ কিছু উন্নতমানের হোটেল ও কটেজ রয়েছে। এছাড়াও অনেক বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

  • ব্লু মেরিন রিসোর্ট (Blue Marine Resort ) : সেন্টমার্টিন দ্বীপের খুব কাছেই ব্লু মেরিন রিসোর্টের অবস্থান। ব্লু মেরিন রিসোর্টের এসি যুক্ত ডাবল রুমের ভাড়া ১৫০০০ টাকা এবং নন-এসি ৫০০০ টাকা। ট্রিপল বেডরুমের প্রতিটির ভাড়া ৩০০০ টাকা, ছয় জনের বেডরুমের ভাড়া ৪০০০ টাকা এবং দশ জনের বেডরুমের ভাড়া ৫০০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৮১৭ ০৬০ ০৬৫
  • কোরাল ভিউ রিসোর্ট (Coral View Resort ) : সেন্টমার্টিন জাহাজ ঘাটের বাম পাশে অর্থাৎ পূর্ব বীচ সংলগ্ন কোরাল ভিউ রিসোর্ট টি গড়ে তোলা হয়েছে। কোরাল ভিউ রিসোর্টে সি ভিউ রুমের ভাড়া ২৫০০-৬০০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৯৮০ ০০৪ ৭৭৭, ০১৯৮০ ০০৪ ৭৭৮
  • প্রাসাদ প্যারাডাইস রিসোর্ট (Prasad Paradise Resort ) :  সেন্টমার্টিন বাজারের ভিতর দিয়ে ব্লু মেরিন রিসোর্ট পার হয়ে আরও কিছুটা উত্তর দিকে এগিয়ে গেলে সুদৃশ্য প্রাসাদ প্যারাডাইস। বিভিন্ন ধরনের ১৬ টি রুমের যেকোনো ১ টি ভাড়া নিতে খরচ করতে হবে ২০০০-৫০০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৯৯৫ ৫৩৯২৪৮, ০১৮৮৩ ৬২৬০০৩
  • নীল দিগন্তে রিসোর্ট (Neel Digante Resort ) : সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ বীচের কোণাপাড়ায় অবস্থিত নীল দিগন্তে রিসোর্ট টি জেটি থেকে বেশখানিকটা দূরে অবস্থিত। নীল দিগন্তে রিসোর্টের নানা ধরনের কটেজ টাইপ রুমে থাকতে খরচ হবে ১৫০০-৫০০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৭৩০ ০৫১ ০০৪
  • প্রিন্স হেভেন রিসোর্ট (Prince Heaven Resort ) : উত্তর বীচে অবস্থিত প্রাসাদ প্যারাডাইস সংলগ্ন প্রিন্স হেভেন রিসোর্টে মোট ২৪ টি কক্ষ এবং একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। প্রিন্স হেভেন রিসোর্টের রুম ভাড়ার পরিমাণ ১৫০০-৩৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৯৯৫ ৫৩৯ ২৪৬,০১৮৮৩ ৬২৬ ০০২

এছাড়াও রয়েছে লাবিবা বিলাস রিসোর্ট, ড্রিম নাইট রিসোর্ট, সায়রী ইকো রিসোর্ট, কোরাল ব্লু, মারমেইড, পান্না রিসোর্ট, সি প্রবাল, সি ইন, হোটেল সাগর পাড়, রিয়াদ গেস্ট হাউজ, হোটেল স্বপ্ন প্রবাল, শ্রাবণ বিলাস, সানসেট ভিউ ইত্যাদি। পর্যটন মৌসুমে প্রায় প্রতি বাড়িতে সরাসরি আলাপ করে আবাসিক থাকার সুবিধা পাওয়া যায়, মৌসুম অনুযায়ী এখানকার ভাড়ার তারতম্য হয় তবে সাধারণত ২০০-৫০০ টাকা হলে মোটামুটি ভালো রুম নেওয়া যায়।

”সেন্টমার্টিনে” যা করবেন ও যা দেখবেন

সেন্টমার্টিন,সেন্টমার্টিন দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ,সেন্ট মার্টিন,ছেড়াদ্বীপ,নারিকেল জিঞ্জিরা,কক্সবাজার,সেন্টমার্টিন হোটেল,দারুচিনি দ্বীপ,সেন্টমার্টিন ভ্রমণ খরচ

সেন্টমার্টিন(Saint Martin) দ্বীপটি পুরো ঘুরে দেখতে চাইলে অবশ্যই সেখানে একদিন অবস্থান করা। এক দিনে যেয়ে আবার চলে আসতে চাইলে আপনি এই অপরুপ দ্বীপের অনেক কিছু দেখা থেকেই বঞ্চিত হতে পারেন। তাই একদিন থেকে সব কিছু ঘুরে দেখতে পারাটাই আপনার ভ্রমণ কে সফল করতে পারে।

সেন্টমার্টিনে ডে ট্রিপঃ যাদের হাতে সময় কম তারা জাহাজ থেকে নেমেই চলে যেতে পারেন পশ্চিম বীচ যা সেন্টমার্টিনের প্রধান বীচ। এই বীচে যাওয়ার জন্য আপনি জাহাজ থেকে নামার পরেই একটা ভ্যান ভাড়া করে চলে যেতে পারেন বীচে। আর যদি আপনি হেঁটে যেতে চান সেক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে ২০-২৫ মিনিট কিন্তু আপনি যেহেতু ডে লং ট্রিপে আসছেন তাই হেঁটে যেয়ে সময় নষ্ট না করাই শ্রেয়। এই বীচের পানি খুব স্বচ্ছ তাই চাইলে পানিতে নামতে পারেন। আপনার ভ্রমণ প্ল্যানের মধ্যে যে বিষয় টা মাথায় রাখতে হবে যে সব জায়গা ঘুরে আপনাকে ২.০০-২.৩০ টার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া শেষ করতে হবে। কারণ আপনাকে অবশ্যই ৩ টার মধ্যে জাহাজ ঘাটে থাকতে হবে। সেন্টমার্টিন যেহেতু ঘুড়তে চলেই এসেছেন সেহেতু আমাদের কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদর কটেজ টাও ঘুরে আসতে পারেন। 

সেন্টমার্টিনে এক দিনের প্ল্যানঃ আপনি যদি একদিনের প্ল্যান নিয়ে আসেন তাহলে জাহাজ থেকে নেমেই আগে হোটেল বা কটেজে উঠুন। দুপুরের খাবার সেরে একটু রেস্ট নিয়ে নেম। বিকেলে বের হয়ে চলে যেতে পারেন ছেঁড়া দ্বীপ। আপনি যদি ছেঁড়া দ্বীপে সূর্যাস্ত দেখতে চান তাহলে অবশ্যই ৪ টার মধ্যে রওনা দিবেন। ছেঁড়া দ্বীপের এই মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত দেখে বেশি দেরি না করে ফিরে আসবেন। সন্ধ্যায় চলে যেতে পারেন মূল দ্বীপের জেটিতে আড্ডা দিতে অথবা পশ্চিমা বীচের যেকোনো জায়গাতে বন্ধুদের নিয়ে গানের আসর বসাতে পারেন। রাতে চাইলে করতে পারেন বার-বি-কিউ পার্টি। বাজারে গেলে অসংখ্য হোটেল বা রেস্টুরেন্টে পাবেন যেখানে কম দামে নিজের পছন্দমত মাছ কিনে বার-বি-কিউ খেতে পারবেন। তবে আপনি চাইলে আপনার রিসোর্টেও বার-বি-কিউ করতে পারেন সেক্ষেত্রে দাম টা বেশী পরবে তবে ফ্রেশ মাছ পারবেন।  পরের দিন সকালে উঠে বীচের চারপাশে ঘুরে দেখতে পারেন। দুপুরে তারাতাড়ি খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ২.৩০ টার পর পর ই জাহাজের কাছে চলে যান।

”সেন্টমার্টিন” ভ্রমণ খরচ

সেন্টমার্টেনে ভ্রমণ খরচ কত হবে সেটা আপনার উপরেই নির্ভর করে। যেমন আপনি কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কি খাবেন ও কি কি করবেন এর সাথে কোন সময়ে যাচ্ছেন এটার উপরেও নির্ভর করে। সিজনে (ডিসেম্বর-জানুয়ারী) বা ছুটির দিন গুলোতে গেলে থাকা খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ একটু বেশিই পরবে। কম খরচে ও মোটামুটি মানের হোটেলে ১ রাত থাকা ও খাওয়া সহ ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে কত খরচ হবে তার একটা ধারনা দেবার জন্য নিচে খরচের তালিকা দেওয়া হলো।

”সেন্টমার্টিন” যাতায়াত খরচ

  • বাসের টিকেটঃ যাওয়া-আসা সহ ১৮০০ টাকা (নন এসি), ৩১০০-৩৪০০ টাকা (এসি);
  • জাহাজ ভাড়াঃ যাওয়া-আসা সহ ৬০০-৮০০ টাকা (ওপেন ডেক), ১০০০-১৬০০ টাকা (এসি);
  • ছেঁড়া দ্বীপঃ ট্রলারে যাওয়া-আসা ২০০ টাকা;
  • লোকাল যাতায়াতঃ সেন্টমার্টিনের বাজারে কিংবা আসে পাশে যাওয়ার ভ্যান ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা ও
  • অন্যান্য খরচঃ ২০০ টাকা।

সেন্টমার্টিনে খাবার খরচ

  • যাত্রার দিনঃ যাত্রা বিরতিতে রাতের খাবার ১০০-২০০ টাকা;
  • প্রথম দিনঃ নাস্তা ৬০-১০০ টাকা, দুপুরের খাবার ১২০-২২০ টাকা ও রাতের খাবার/বার-বি-কিউ ২০০-৩০০ টাকা;
  • দ্বিতীয় দিনঃ নাস্তা ৬০-১০০ টাকা, দুপুরের খাবার ১২০-২২০ টাকা ও
  • ফিরে আসার দিনঃ যাত্রা বিরতিতে রাতের খাবার ১০০-২০০ টাকা।

আপনি চাইলে আরও কম খরচে খাওয়া-দাওয়া করা সম্ভব সেক্ষেত্রে বাজারের ভিতরের দিকের হোটেল গুলোতে গিয়ে সাধারণ খাবার খেলে খরচ অনেক কমে যাবে।

সেন্টমার্টিনে” থাকার খরচ

স্ট্যান্ডার্ড হোটেল/রিসোর্ট কাপল রুম বা ডাবল বেড ১৫০০-২৫০০ টাকা। বাজারের দিকে মোটামুটি মানের হোটেল ৮০০-১২০০ টাক। খুব পিক সিজন এবং সরকারি ছুটির দিনে ভাড়া আরও বেড়ে যাবে। এক রুমে কয়েকজন মিলে থাকলে খরচ ভাগ হয়ে কমে যাবে। পিক সিজন ও ছুটির দিন বাদে গেলে খরচ আরও কমে যাবে। এছাড়া আরও কম টাকায় থাকতে চাইলে স্থানীয় মানুষদের বাড়িতে অল্প টাকায় থাকতে পারবেন। এজন্য একটু খুঁজে ও কথা বলে দেখতে হবে।

সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • রোহিঙ্গাজনিত সমস্যার কারনে সেনৃটমার্টিনে মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সী কম থাকে। কথা বলতে সমস্যা হতে পারে। তবে টেলিটক তুলনামূলক ভাল কাজ করে;
  • বর্তমানে নিয়মিতভাবে সেন্টমার্টিনে বিজিবি টহল দেয়, তারা অনেক সময় রাত ১২ টার পর পর্যটকদের বীচে বা জেটি এলাকায় থাকতে নিষেধ করে;
  • কম খরচে সেন্টমার্টিন থাকা ও খাওয়ার জন্য ছুটির দিন গুলোতে না গিয়ে অন্যান্য দিন যেতে পারেন;
  • বর্তমানে সেন্টমার্টিনে অনেক হোটেল ও কটেজ গড়ে উঠেছে, তাই থাকার জায়গার অভাব হয় না;
  • পর্যটন এলাকায় যেকোনো কিছু কেনার ক্ষেত্রে দরদাম করবেন;
  • মানুষ বেশি হলে আগেই জাহাজের টিকিট কিনে ফেলতে পারেন;
  • দালালদের খপ্পরে পড়বেন না, নিজই সব কিছু করুন;
  • চাইলে কক্সবাজারের বিভিন্ন এজেন্ট থেকে সেন্টমার্টিনের প্যাকেজ কিনে নিতে পারেন;
  • সেন্টমার্টিন যাওয়া আসার সময় জাহাজের ডেক থেকেই সবচেয়ে সুন্দর ভিউ দেখতে পারবেন;
  • সমুদ্রে নামার সময় সতর্ক থাকুন;
  • সঠিক জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলবেন। দয়া করে প্লাস্টিক/পলিথিন কিছুই সমুদ্রে ফেলে আসবেন না এবং
  • সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের সম্পদ, তাই প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here