সাজেক ভ্যালি,সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ,সাজেক,সাজেক ট্যুর,সাজেক ভ্যালী,চান্দের গাড়ি,সাজেক ভ্রমন,বাংলার দার্জিলিং,সাজেক ভ্রমণ,বাঘাইহাট,কংলাক পাড়া,কংলাক পাহাড়,খাগড়াছড়ি,রুইলুই পাড়া

“সাজেক ভ্যালি” পরিচিতি

সাজেক ভ্যালি(Sajek Valley) যার অপর নাম মেঘের রাজ্য।সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে যে কয়টি ভ্রমণ গন্তব্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হল রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালি। সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ। সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন ; যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট। আর ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কংলাক পাহাড়-এ কংলাক পাড়া অবস্থিত। সাজেকে মূলত লুসাই ,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা উপজাতি বসবাস করে। সাজেকের কলা ও কমলা বেশ বিখ্যাত। রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখে যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। তাই সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ।

সোর্সঃ উইকিপেডিয়া

“সাজেক ভ্যালির” দর্শনীয় স্থান

সাজেকের চারপাশে রয়েছে সারি সারি পাহাড় ও সাদা কালো তুলোর মত অসংখ্য মেঘের ভ্যালি। প্রকৃতির লীলা খেলা দেখতে চাইলে সাজেকই আপনার জন্য সবচেয়ে উত্তম জায়গা যেখানে আপনি একই দিনে প্রকৃতির তিন টি রূপ ও দেখতে পেতে পারেন,কখনো খুব গরম বা কখনো বৃষ্টি অথবা চোখেরই পলকে মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। পাহাড়ের চারপাশে মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখতে চাইলে সাজেকই হবে আপনার জন্য আদর্শ জায়গা।

সাজেক ভ্যালির প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে কংলাক পাহাড়। সারা বছর ব্যাপী হাজারো পর্যটক দের আগমন ঘটে এই কংলাক পাহাড়ে। সাজেক ভ্যালির শেষ গ্রাম কংলক পাড়া লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। যাদের ট্র্যাকিং পছন্দ তারা চাইলেই রুইলুই পাড়া থেকে দুই ঘনটা ট্র্যাকিং করে কমলক ঝর্ণা দেখে আসতে পারেন। সুন্দঅর এই ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম ঝর্ণা নামেও পরচিত। সাজেকে যে জিনিস টা আপনি কখনোই মিস করতে চাইবেন না সেটা হলো সাজেকে ভোরের সূর্যোদয়। এই সময়েই মেঘের খেলা এবং সূর্যোদয়ের আলোর মেলায় এক স্বর্গীয় সৌন্দর্যের অনুভূতি পাবেন। তাই খুব ভোরে উঠেই আপনাকে চলে যেতে হবে হ্যালিপ্যাডে,সেখান থেকেই সবচেয়ে সুন্দর সূর্যোদয় দেখা যায়। বিকেলে কোনো এক উঁচু জায়গা বা পাহাড় হতে সূর্যাস্তের রক্তিম আভা আপনাকে বিমোহিত করবেই। সন্ধ্যার পর আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা,আপনার প্রাণ কে শীতল করবে নিমিষেই। রতের আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা পাবেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের। এছাড়া চারপাশ ঘুরে দেখতে পাড়েন,আদিবাসীদের জীবন-যাপন ও তাদের সান্নিধ্য আপনাকে ভাবাবে মানুষ কত সহজ-সরল হয়,আপনার মধ্যে এক পজিটিভ এনার্জি চলে আসবে।

সাজেক ভ্যালি,সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ,সাজেক,সাজেক ট্যুর,সাজেক ভ্যালী,চান্দের গাড়ি,সাজেক ভ্রমন,বাংলার দার্জিলিং,সাজেক ভ্রমণ,বাঘাইহাট,কংলাক পাড়া,কংলাক পাহাড়,খাগড়াছড়ি,রুইলুই পাড়া

“সাজেক ভ্যালি” ভ্রমন খরচ

রাঙ্গামাটি থেকে সাজেক ভ্রমণ (Sajek Valley) খরচঃ রাঙ্গামাটি হতে নৌপথ এবং সড়কপথ উভ্যভাবেই বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ টা থেকে ১০.৩০ টা এর মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে,যেতে সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা।জনপ্রতি ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। রাঙ্গামাটি বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭.৩০ টা থেকে ৮.৩০ টার মধ্যে বাস ছাড়ে , জনপ্রতি ভাড়া নেয় ২০০ টাকা।সময় লাগে ৬-৭ঘণ্টা ।এছারাও ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া স্মভব।বাঘাইছড়ি থেকে জীপ (চাঁদের গাড়ি) অথবা মোটর সাইকেলে সাজেক ভ্যালীতে পৌঁছানো যায় এতে জনপ্রতি ভাড়া লাগে ৩০০/- টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভ্রমণ (Sajek Valley) খরচঃ চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি বা দীঘিনালা হয়ে সাজেক যেতে পারবেন। চট্টগ্রামের কদমতলী থেকে বিআরটিসি এসি বাস সারাদিনে ৪ টি চলাচল করে,ভারা ২০০ টাকা।এছাড়া অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের বাস চলাচল করে,তাড়া ১৯০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘণ্টা।

“সাজেক ভ্যালিতে” যাওয়ার উপায়

সাজেকের অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ।তাই প্রথমেই আপনাকে খাগড়াছড়ি আস্তে হবে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে চাইলে সৌদিয়া, শ্যামলি,শান্তি পরিভন,এস আলম,ঈগল ইত্যাদি বাসে করে যেতে পারবেন। নন এসই বাসের ভারা ৫২০ টাকা। এসই বাস ও বিআরটিসি বাসের ভারা ৭০০ টাকা। বাসগুলো সাধারণত রাত ১০ টার মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া শান্তি পরিবহন বাস সরাসরি দীঘিনালা যায়,ভাড়া ৫৮০ টাকা। ছুটির দিনে যেতে চাইলে আগে থেকেই টিকিট কেটে রাখা ভালো নয়তো পড়ে টিকিট নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। খাগছড়ি শহরের শাপলা চত্বরের কাছ থেকে জীপগাড়ি(চান্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আস্তে পারেন। যাওয়া আসা সহ দুইদিনের জন্যে ভারা নিবে ৮০০০-১০০০০ টাকা। এক গাড়িতে করে ১২-১৫ জন যেতে পারবেন। এছারা সিএনজি দিয়েও সাজেক যেতে পারবেন। রিজার্ভ ভারা লাগবে ৪০০০-৫০০০ টাকা। তবে পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তা বলে সিএনজি দিয়ে ভ্রমণ না করাই ভাল।

“সাজেক ভ্যালিতে” থাকার জায়গা

সাজেকে থাকার জন্য ৪০ এর অধিক রিসোর্ট ও আদিবাসী কটেজ রয়েছে। এক রাত থাকার জন্য জন প্রতি ২০০-১৫০০০ টাকা ভাড়া পরবে। ছুটির দিনে যেতে চাইলে মাস খানেক আগে থেকে বুকিং দিয়ে আরাখা ভাল,নয়তো ভাল রুম পাবার নিশ্চয়তা কম। বাজেত কম হলে আদিবাসী কটেজে থাকতে পাওরেন। সাজেকের সব কটেজ থেকেই প্রায় সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়।

“সাজেক ভ্যালিতে” খাওয়া দাওয়া

সব রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা থাকে তাই আগে থেকে রিসোর্টগুলোতে বলে রাখলে পছন্দ মত রান্না করে দিবে সেক্ষেত্রে প্রতিবেলা প্রতিজন ১০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মেনু হিসেবে পাবেন ভাত , আলুভর্তা, মুরগীর মাংস ইত্যাদি। চাইলে রাতে বার বি কিউও কোরতে পারবেন। আদিবাসী ঘড়েও খাওয়া যায়, আগে থেকে বোলে রাখতে হবে কি রান্না করে দিবে। সাজেকে খুব সস্তায় পেঁপে, আনারস, কলা ইত্যাদি ফল পাবেন , এগুলা চেখে দেখতে ভুল করবেন না।

“সাজেক ভ্যালি” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • সাজেকে বিদ্যুৎ নেই,সীমিত সময়ের জন্য সোলার পাওয়ার থাকলেও টা ডীয়ে চার্জ করা সম্ভব নয়। টাই সাথে পাওয়ার ব্যাংক রাখুন।
  • সাজেকে শুধু মাত্র রবি, এয়ারটেল ও টেলিটক এর নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যায়।
  • সাজেকে যাবার পথ অনেক আকাবাক ও উঁচু নিচু, তাই এই পথ বিপদজনক। জিপের ছাঁদে ভ্রমণে সতর্ক থাকুন।
  • সাজেকে যেতে গাইডের প্রয়োজন হয় না।
  • আদিবাসীদের ছবি টোলার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নিয়ে নিন।
  • আদিবাসী মানুষ জন সহজ সরল তাদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করুণ অ টাদের কালচারের প্রতি সম্মান দেখান।
  • ছুটির দিনে গেলে আগে থেকেই (মাস খানেক) রুম বুকিং দিয়ে রাখুন।
  • যাবার পথে কয়েক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প আছে। সেখানে ভ্রমণকারী সদস্যদের কিছু তথ্য জমা দিতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সহযোগিতা করুন । সাথে করে নিজের জাতীয় পরিচয়য় পত্রের কপি রাখুন।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here