শুভলং ঝর্ণা,শুভলং ঝরনা,রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই লেক,শুভলং,ঝর্ণা,রাঙামাটি,তৈসা ঝর্ণা,ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি,#শুভলংঝর্ণা,সাজেক ভ্যালি,সুভলং ঝর্না,বাংলাদেশ,chagolkanda jhorna || ছাগলাকান্দা

“শুভলং ঝর্ণা” পরিচিতি

রাঙ্গামাটি শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে শুভলং বাজারের পাশেই অবস্থিত শুভলং ঝর্ণা(Shuvolong Water Falls)। বাংলাদেশের অন্যান্য সকল ঝর্ণার মতই শুভলং ঝর্ণাতে শুকনো মৌসুমে পানি অনেক কম থাকে। বর্ষায় প্রায় ১৪০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে বিপুল জলধারা কাপ্তাই লেকে আছড়ে পড়ে। তাছাড়া শুভলং ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার সময় সৌন্দর্য্য আপনাকে মনোমুগ্ধকর করে তুলবে। দুই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া লেক দেখে আপনার থাইল্যান্ড মনে হতে পারে।

শুভলং ঝর্ণার সৌন্দর্য্য পর্যটকদের বিমোহিত করে তুলে। পাথুরে মাটিতে পাহাড়ের উপর থেকে ঝর্ণাধারা আছড়ে পড়ার অসাধারন দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মত না। ঝর্ণার শীতল পানিতে ভিজলে আপনার শরীর জুড়িয়ে যেতে বাধ্য। শুভলং ঝর্ণার সাথেই প্রায় ২০০০ ফুট উঁচু ‘শুভলং পাহাড় রয়েছে। পাহাড় চূড়ায় সেনাক্যাম্প ও একটি টিঅ্যান্ডটি টাওয়ার অবস্থিত। পাহাড়ে ওঠার জন্য আছে অতি চমৎকার সিঁড়ি। পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখলে মনে হবে যেন সমস্ত রাঙ্গামাটি জেলাই কাপ্তাই লেকের পানির উপর ভেসে রয়েছে।

সোর্সঃ ইকিপিডিয়া

“শুভলং ঝর্ণা” কিভাবে যাবেন

ঢাকা হতেঃ সায়দাবাদ ও ফকিরাপুল মোড়ে রাঙ্গামাটিগামী অনেক বাস কাউন্টার অবস্থিত। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা হতে ৯ টা এবং রাত ৮ টা হতে রাত ১১ টার মধ্যে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা টু রাঙ্গামাটি শ্যামলীর এসি বাসের সীট ভাড়া ১৫০০ টাকা, বিআরটিসি এসি বাসের ভাড়া ৮০০ টাকা। এছাড়া সকল নন-এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

চট্টগ্রাম হতেঃ চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় হতে রাঙ্গামাটিগামী বিভিন্ন পরিবহণের লোকাল ও গেইটলক বাস পাওয়া যায় যেকোনো সময়। ভাড়া একটু বেশি হলেও গেইটলক বাসে উঠা ভালো। চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি ডাইরেক্ট বা গেইটলক বাস ১৫০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে শুভলং যাবার নৌকা সারাদিনের জন্য ভাড়া করুন। আপনি যদি সারাদিনের জন্যে ভাড়া করেন তাহলে শুভলং ঝর্ণা ছাড়াও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন খুব সহজে। এখানে নৌকার সাইজের উপর ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে। তবে মোটামুটি সাইজের একটা নৌকা ১১০০-১৬০০ টাকার মধ্যে ভাড়া করতে পারবেন। ১০-১৫ জন যেতে পারবেন এক নৌকায়। শুভলং ঝর্ণা যেতে দুই ঘন্টা সময় লাগে থাকে। লেকের মধ্যে দেখার মত আরো ৮-৯ টা জায়গা রয়েছে। সময় করে সবগুলো ঘুরে দেখে নিবেন। এছাড়া যদি ভ্রমণসঙ্গী ১০-১৫ জন না থাকে তাহলে রিজার্ভ বাজার থেকে জনপ্রতি প্যাকেজে ঘুরে আসতে পারবেন সকল দর্শনীয় স্থানে।

শুভলং ঝর্ণা,শুভলং ঝরনা,রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই লেক,শুভলং,ঝর্ণা,রাঙামাটি,তৈসা ঝর্ণা,ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি,#শুভলংঝর্ণা,সাজেক ভ্যালি,সুভলং ঝর্না,বাংলাদেশ,chagolkanda jhorna || ছাগলাকান্দা

“শুভলং ঝর্ণা” খাওয়া ও থাকা

শুভলং এলাকায় খাওয়া ও থাকার জন্য ভাল কোন ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে দিনে গিয়ে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই রাঙ্গামাটি ফিরে আসতে হবে। আপনার থাকতে হলে রাঙ্গামাটিতে থাকতে হবে। প্রয়োজনে সাথে হালকা খাবার নিয়ে শুভলং ঝর্ণা (Shuvolong Water Falls) চলে যান। বোট নিয়ে যদি পেডা টিং টিং এ যেতে পারেন তাহলে সেখানে খেতে পারবেন।

রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও গেষ্ট হাউজ অবস্থিত। রাঙ্গামাটি শহরের পুরান বাস স্ট্যন্ড ও রিজার্ভ বাজার এলাকায় লেকের কাছাকাছি হোটেল ঠিক করার চেষ্টা করবেন। কারণ হোটেল থেকে কাপ্তাই লেকের পরিবেশ ও প্রাণবন্ত বাতাস খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া কম খরচে থাকতে চাইলে বোডিং এ যোগযোগ করতে পারেন। বোডিংগুলোতে কম খরচে থাকতে পারবেন কিন্তু এগুলোর অবস্থা তেমন ভাল নয়।

উল্লেখযোগ্য কিছু আবাসিক হোটেলের নামঃ

হোটেল গ্রিন ক্যাসেল : রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত এ হোটেলে নন-এসি সিঙ্গেল বেড- ৯০০ টাকা, ডাবল বেড- ১১০০ টাকা ও ত্রিপল বেড- ১৩০০ টাকা। এসি কাপল বেড রুম পাবেন ১৭০০ টাকায় ও এসি ত্রিপল বেড রুম পাবেন ২১০০ টাকায়। যোগাযোগ: 01726-511532, 01815-459146

পর্যটন মোটেল : রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজের পাশে অবস্থিত এ হোটেলটিতে নন-এসি ডাবল বেডের রুম ১০০০-১৫০০ টাকা পড়বে। আর এসি ডাবল বেড পাবেন ১৫০০-২০০০ টাকা পড়বে। যোগাযোগঃ ০৩৫১-৬৩১২৬

রংধনু গেস্ট হাউজ : এই গেস্ট হাউজে ফ্যামিলি বেড বা কাপল বেড ভাড়া পড়বে যথাক্রমে ৭৫০ ও ৬০০ টাকা। যোগাযোগ: 01816-712622, 01712-392430

হোটেল সুফিয়া : ফিসারী ঘাট, কাঁঠালতলী। যোগাযোগ: 01553-409149

হোটেল আল-মোবা : নতুন বাস স্টেশন, রিজার্ভ বাজার। যোগাযোগ: 01811-911158

রাঙ্গামাটির আশেপাশে দর্শনীয় স্থান

রাঙ্গামাটি জেলায় আরো যেসব আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান অবস্থিতঃ কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত ব্রিজ, ইকো পার্ক, উপজাতীয় জাদুঘর, ঝুম রেস্তোরা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, যমচুক, নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্র, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজবাড়ি, পেডা টিং টিং, উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট, নৌ-বাহিনীর পিকনিক স্পট, রাজস্থলী ঝুলন্ত সেতু, ফুরমোন পাহাড়, সাজেক ভ্যালি, আর্যপুর ধর্মোজ্জ্বল বনবিহার, ডলুছড়ি জেতবন বিহার, কাট্টলী বিল ও ন-কাবা ছড়া ঝর্না, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ইত্যাদি।

“শুভলং ঝর্ণা” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • গ্রুপ করে যাওয়ার চেষ্টা করুন তাহলে খরচ কম হবে।
  • কিছু কিনতে বা খাবার খেতে হলে দরদাম করে নিবেন এতে করে আপনার খরচ বাঁচবে।
  • হোটেল বা রিসোর্ট, বোট বা নৌকা এবং অন্যান্য যানবাহন ভাড়া করার সময় দরদাম করে নিবেন কারণ আপনার কাছে চালকরা বেশি দাম চাইবে।
  • দিন যতই যাবে সব কিছুর দাম ততই পরিবর্তন হতে থাকবে তাই যাওয়ার আগে অবশ্যই সব কিছু যাচাই করে যাবেন এবং আমাদের দেওয়া হোটেল বা রিসোর্ট ও রেস্টহাউজগুলোর ফোন নম্বরে কল করে থাকার ব্যবস্থা করে যাবেন যদি রাতে থাকতে চান।
  • পাহাড়ে চড়ার সময়, কোন যানবাহনে চড়ার সময়, পানিতে নামার সময় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
  • কোথাও তাড়াহুড়া করে কোন কাজ করবেননা কারণ সময় থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
  • সাথে সব সময় পানি বা হালকা কিছু খাবার রাখবেন।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here