ঝুলন্ত ব্রিজ,ঝুলন্ত সেতু,কাপ্তাই লেক,রাঙ্গামাটি ভ্রমণ,রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ,কাপ্তাই,রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই ভ্রমণ,খাগড়াছড়ি ঝুলন্ত ব্রিজ,রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড

“ঝুলন্ত ব্রিজ” পরিচিতি

ভ্রমণ প্রেমিক মানুষের কাছে রাঙ্গামাটি জেলা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পর্যটকদের মন্ত্রমুগ্ধ করতে রাঙ্গামাটিতে রয়েছে অনেক পর্যটন কেন্দ্র। তাদের মধ্যে কাপ্তাই লেকের উপর নির্মিত ৩৩৫ ফুট লম্বা ঝুলন্ত ব্রিজ উল্লেখযোগ্য। রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণ করবেন আর ঝুলন্ত সেতু দেখে জাবেননা তা কি করে হয়। কাপ্তাই লেকের বিচ্ছিন্ন দুই পাড়ের পাহাড়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে রঙিন এই ঝুলন্ত ব্রিজ। এই ব্রিজে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

ব্রিজের এক পাশে পাহাড়ের উপর রয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য স্লিপার, দোলনা ইত্যাদি। ঝুলন্ত ব্রিজে প্রবেশের জন্য আপনাকে ২০ টাকা ফি দিতে হবে পর্যটন কর্পোরেশনকে।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

“ঝুলন্ত ব্রিজ” কখন যাবেন ও কি দেখবেন

ঝুলন্ত ব্রিজ(jhulonto Bridge) দেখতে ১২ মাসের যে কোন সময়ই যেতে পারেন। তবে বর্ষা কালে অতি বৃষ্টি হলে অনেক সময় ঝুলন্ত ব্রিজের উপর পানি উঠে যায় সেইসময় ঝুলন্ত ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়া যায় না। তাই বর্ষার সময় গেলে আগেই খোঁজ নিয়ে যাবেন অবশ্যই। সাধারণত শীতের আগে পর্যটকরা ঝুলন্ত সেতু ভ্রমণে যান। রাঙ্গামাটিতে গেলে শুধু ঝুলন্ত ব্রিজ নয় আশেপাশে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা আপনি চাইলে একইদিনে একসাথে ঘুরে দেখতে পারবেন। আপনি যদি সারাদিনের জন্যে ট্রলার / বোট রিজার্ভ করে নেন তাহলে চালক আপনাকে ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলং ঝর্ণা, রাজবন বিহার, লেক ভ্রমণসহ আরও কিছু পর্যটন স্থানে ঘুরে দেখাবে।

ঝুলন্ত ব্রিজ,ঝুলন্ত সেতু,কাপ্তাই লেক,রাঙ্গামাটি ভ্রমণ,রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ,কাপ্তাই,রাঙ্গামাটি,কাপ্তাই ভ্রমণ,খাগড়াছড়ি ঝুলন্ত ব্রিজ,রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড

“ঝুলন্ত ব্রিজ” কিভাবে যাবেন

ঢাকা হতেঃ ঢাকার সায়দাবাদ ও ফকিরাপুল মোড়ে রাঙ্গামাটিগামী অনেক বাস কাউন্টার অবস্থিত। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা এবং রাত ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা টু রাঙ্গামাটি বিআরটিসি এসি বাসের ভাড়া ৮০০ টাকা, শ্যামলীর এসি বাসের প্রতি সীট ভাড়া ৯৫০ টাকা। তাছাড়া সকল নন-এসি বাসের ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নিবে।

চট্টগ্রাম হতেঃ চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙ্গামাটিগামী বিভিন্ন পরিবহণের গেইটলক/ডাইরেক্ট ও লোকাল বাস পাওয়া যায়। ভাড়া একটু বেশি হলেও গেইটলক বা ডাইরেক্ট বাসে উঠা উচিত হবে আপনার জন্য ১৫০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন। চট্টগ্রামের বহাদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকেও রাঙ্গামাটির বাস পেয়ে যাবেন।
রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়িতে নেমে সিএনজি অথবা অটোরিক্সা করে সরাসরি ঝুলন্ত ব্রিজে যেতে পারবেন। তবলছড়ি থেকে ঝুলন্ত ব্রিজে সিএনজি ভাড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর রাঙ্গামাটির বনরূপা থেকে সিএনজি ভাড়া লাগে ১৫০ টাকা।

রাঙ্গামাটি থাকার ব্যবস্থা

রাঙ্গামাটিতে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের গেষ্ট হাউজ ও আবাসিক হোটেল অবস্থিত। রাঙ্গামাটি শহরের পুরান বাস স্ট্যন্ড ও রিজার্ভ বাজার এলাকায় লেকের কাছাকাছি হোটেল ঠিক করার চেষ্টা করবেন। কারণ হোটেল থেকে কাপ্তাই লেকের পরিবেশ ও প্রাণবন্ত বাতাস খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া কম খরচে থাকতে চাইলে বোডিং এ যোগযোগ করতে পারেন। বোডিংগুলোতে কম খরচে থাকতে পারবেন কিন্তু এগুলোর অবস্থা তেমন ভাল নয়।

উল্লেখযোগ্য কিছু আবাসিক হোটেলের নামঃ

হোটেল গ্রিন ক্যাসেল :
রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত এ হোটেলে নন-এসি সিঙ্গেল বেড- ৯০০ টাকা, ডাবল বেড- ১১০০ টাকা ও ত্রিপল বেড- ১৩০০ টাকা। এসি কাপল বেড রুম পাবেন ১৭০০ টাকায় ও এসি ত্রিপল বেড রুম পাবেন ২১০০ টাকায়। যোগাযোগ: 01726-511532, 01815-459146

পর্যটন মোটেল : রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজের পাশে অবস্থিত এ হোটেলটিতে নন-এসি ডাবল বেডের রুম ১০০০-১৫০০ টাকা পড়বে। আর এসি ডাবল বেড পাবেন ১৫০০-২০০০ টাকা পড়বে। যোগাযোগঃ ০৩৫১-৬৩১২৬

রংধনু গেস্ট হাউজ : এই গেস্ট হাউজে ফ্যামিলি বেড বা কাপল বেড ভাড়া পড়বে যথাক্রমে ৭৫০ ও ৬০০ টাকা। যোগাযোগ: 01816-712622, 01712-392430

হোটেল সুফিয়া : ফিসারী ঘাট, কাঁঠালতলী। যোগাযোগ: 01553-409149

হোটেল আল-মোবা : নতুন বাস স্টেশন, রিজার্ভ বাজার। যোগাযোগ: 01811-911158

খাওয়া দাওয়া

রাঙ্গামাটিতে অনেক বিভিন্ন মানের খাবার রেস্টুরেন্ট অবস্থিত। আপনার সাধ্যের মধ্যে যেকোন রেস্টুরেন্টে আপনার প্রতিবেলার খাবার খেয়ে ফেলতে পারেন। রেস্টুরেন্টে আপনি পাবেন স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সকল খাবার। ভিন্ন স্বাদের খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না কিন্তু।

রাঙ্গামাটিকে ঘিরে যেসব দর্শনীয় স্থান

তাছাড়া রাঙ্গামাটিকে ঘিরে যেসব সুন্দর ও দর্শনীয় স্থান রয়েছেঃ শুভলং ঝর্ণা, কাপ্তাই লেক, শেখ রাসেল এভিয়ারী এন্ড ইকো পার্ক, উপজাতীয় জাদুঘর, ঝুম রেস্তোরা, টুকটুক ইকো ভিলেজ, চিৎমরম গ্রাম ও টাওয়ার, যমচুক, রাইক্ষ্যং পুকুর, নির্বাণপুর বন ভাবনা কেন্দ্র, রাজবন বিহার, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজবাড়ি, পেদা টিং টিং, উপজাতীয় টেক্সটাইল মার্কেট, নৌ-বাহিনীর পিকনিক স্পট, রাজস্থলী ঝুলন্ত সেতু, ফুরমোন পাহাড়, সাজেক ভ্যালি, আর্যপুর ধর্মোজ্জ্বল বনবিহার, ডলুছড়ি জেতবন বিহার, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, কাট্টলী বিল ও ন-কাবা ছড়া ঝর্না ইত্যাদি।

“ঝুলন্ত ব্রিজ” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • গ্রুপ করে যাওয়ার চেষ্টা করুন তাহলে খরচ কম হবে।
  • কিছু কিনতে বা খাবার খেতে হলে দরদাম করে নিবেন এতে করে আপনার খরচ বাঁচবে।
  • হোটেল বা রিসোর্ট, বোট বা নৌকা এবং অন্যান্য যানবাহন ভাড়া করার সময় দরদাম করে নিবেন কারণ আপনার কাছে চালকরা বেশি দাম চাইবে।
  • দিন যতই যাবে সব কিছুর দাম ততই পরিবর্তন হতে থাকবে তাই যাওয়ার আগে অবশ্যই সব কিছু যাচাই করে যাবেন এবং আমাদের দেওয়া হোটেল বা রিসোর্ট ও রেস্টহাউজগুলোর ফোন নম্বরে কল করে থাকার ব্যবস্থা করে যাবেন যদি রাতে থাকতে চান।
  • পাহাড়ে চড়ার সময়, কোন যানবাহনে চড়ার সময়, পানিতে নামার সময় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
  • কোথাও তাড়াহুড়া করে কোন কাজ করবেননা কারণ সময় থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
  • সাথে সব সময় পানি বা হালকা কিছু খাবার রাখবেন।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here