জাফলং,জাফলং ভ্রমণ,জাফলং সিলেট,সিলেট,জাফলং ঝর্না,লালাখাল,জাফলং ভ্রমণ গাইড,সিলেট ভ্রমণ,বিছানাকান্দি ভ্রমণ,জিরো পয়েন্ট,জাফলং ঝর্ণা সিলেট,বাংলাদেশ,ভ্রমণ,বিছানাকান্দি,ভ্রমণ গাইড

”জাফলং” পরিচিতি

জাফলং(Jaflong) প্রকৃতির কন্যা হিসেবে পরিচিত। জাফলং, বাংলাদেশের সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি পর্যটনস্থল। জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ,উঁচু উঁচু পাহাড়ের সাদা মেঘের খেলা জাফলং কে করেছে অনন্য। জাফলং একেক ঋতুতে একেক রকম রুপের প্রকাশ ঘটায় যা পর্যটকদেরকে ভ্রমণের জন্য সারা বছরই আগ্রহী করে রাখে।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

”জাফলংয়ের” দর্শনীয় স্থানগুলো

জাফলং(Jaflong)-এর বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়ালে ভারত সীমান্ত-অভ্যন্তরে থাকা উঁচু উঁচু পাহাড়শ্রেণী দেখা যায়। এসব পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরণা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া ভারতের ডাউকি বন্দরের ঝুলন্ত সেতুও আকর্ষণ করে অনেককে। এছাড়া সর্পিলাকারে বয়ে চলা ডাওকি নদীও টানে পর্যটকদের। মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের ফলে ভারত সীমান্তে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীর স্রোত বেড়ে গেলে নদী ফিরে পায় তার প্রাণ, আর হয়ে ওঠে আরো মনোরম। ডাওকি নদীর পানির স্বচ্ছতাও জাফলং-এর অন্যতম আকর্ষণ। পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে জাফলং-এ আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলা। এই মেলাকে ঘিরে উৎসবে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। বর্ষাকাল আর শীতকালে জাফলং-এর আলাদা আলাদা সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বর্ষাকালে বৃষ্টিস্নাত গাছগাছালি আর খরস্রোতা নদী হয় দেখার মতো। তাছাড়া পাহাড়ের মাথায় মেঘের দৃশ্যও যথেষ্ট মনোরম।

”জাফলংয়ে” যেভাবে যাবেন

জাফলং,জাফলং ভ্রমণ,জাফলং সিলেট,সিলেট,জাফলং ঝর্না,লালাখাল,জাফলং ভ্রমণ গাইড,সিলেট ভ্রমণ,বিছানাকান্দি ভ্রমণ,জিরো পয়েন্ট,জাফলং ঝর্ণা সিলেট,বাংলাদেশ,ভ্রমণ,বিছানাকান্দি,ভ্রমণ গাইড

জাফলং(Jaflong) যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে সিলেটে। বাস,ট্রেন কিংবা আকাশ পথের মাধ্যমে আপনি দেশের প্রায় সব জায়গা থেকেই সিলেট যেতে পারবেন। নিম্নে বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ-

ঢাকা থেকে সিলেট

ঢাকা থেকে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সিলেটগামী যেকোনো বাসে করে চলে যেতে পারেন সিলেট। ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী, সায়দাবাদ, মহাখালি ও আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল থেকে সিলেটের বাস ছেড়ে যায়। গ্রীন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলি ও এনা পরিবহনের এসি বাস যাতায়াত করে, এগুলোর ভাড়া সাধারণত ৮০০-১২০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও ঢাকা থেকে সিলেট যেতে শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, এনা পরিবহনের নন এসি বাস জনপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা ভাড়ায় পাবেন। সকাল, দুপুর কিংবা রাত সবসময়ই বাস ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৪০ কিলোমিটার, সিলেট পৌঁছাতে সাধারণত সময় লাগে ৬ ঘণ্টার মত।

ঢাকা থেকে ট্রেনে সিলেট যেতে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন হতে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত, অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনকে বেছে নিতে পারেন। শ্রেণি ভেদে জনপ্রতি ট্রেনের ভাড়া ২৮০ থেকে ১২০০ টাকা। ট্রেনে সিলেট যেতে সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা।

ঢাকা থেকে সবচেয়ে দ্রুত যাওয়ার জন্য আকাশ পথে ভ্রমণ করতে পারেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার এবং ইউএস বাংলা

এয়ারের বিমান প্রতিদিন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ক্লাস অনুযায়ী সাধারণত ভাড়া ৩০০০-১০০০০ টাকা এর মধ্যে হয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেট

চট্টগ্রাম থেকে গ্রীনলাইন, এনা, সৌদিয়া সহ অন্যান্য আরও অনেক বাস সিলেট যায়। এসি ও নন এসি এসব বাসের ভাড়া ৭০০-২০০০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকেও ট্রেনে সিলেট যেতে পারেন। পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। ট্রেন ভাড়া ক্লাস অনুযায়ী ২৫০-১১০০ টাকা।

সিলেট থেকে ”জাফলং

সিলেট থেকে প্রায় সবরকম যানবাহন করেই জাফলং(Jaflong) যাওয়া যায়। লোকাল বাসে যেতে আপনাকে শহরের শিবগঞ্জে যেতে হবে সেখান থেকে জনপ্রতি ভাড়া লাগে ৮০ টাকা। সিনজি দিয়ে গেলে ভাড়া পড়বে ১২০০-২০০০ টাকার মত। মাইক্রো বাস সারাদিনের জন্য ৩০০০-৫০০০ টাকায় ভাড়া নিয়েও যেতে পারেন। সিলেট নগরীর যেকোনো অটোরিকশা বা সিনজি স্ট্যান্ড থেকেই জাফলং যেতে পারবেন। যদি দলগতভাবে যান তাহলে একটা মাইক্রো ভাড়া করে নিতে পারেন এতে করে বিভিন্ন জায়গাতে থেমে চারপাশ টাও দেখতে পারবেন। মাইক্রো ঠিক করার আগে অবশ্যই দরদাম করবেন এবং কি কি দেখতে চান তা ভালো করে কথা বলে নিবেন।

জাফলংয়ে থাকার জায়গা

জাফলং(Jaflong) এ গেস্ট হাউজ, রেস্ট হাউজ ও জেলা পরিষদের বাংলো ছাড়া থাকার ভালো ব্যবস্থা নেই। আপনি যদি জাফলং এ থাকতে চান তাহলে আগে থেকেই বুকিং দিতে হবে। সিলেট লাল বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউজ আছে। এখানে ৪০০-২৫০০ টাকায় বিভিন্ন ধরনের রুম পাবেন। এছাড়াও হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে আপনার প্রয়োজন ও সামার্থ অনুযায়ী থাকতে পারবেন।

”জাফলং” এ গেস্ট হাউজ ও রেস্ট হাউজের তথ্য

  • জেলাপরিষদের রেস্ট হাউজ, উপজেলা হেড কোয়ার্টার। যোগাযোগ ইউএনওঃ ০১৭৩০ ৩৩১ ০৩৬, কোয়ার্টারঃ ০১৭৩৭ ৬৯৬ ৭৮১
  • নলজুরী রেস্ট হাউজ-নলজুরী, জাফলং। যোগাযোগঃ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, সিলেট-০১৭১১ ৯৬৬ ০১৯, কেয়ারটেকারঃ ০১৭৫২ ২২৬ ৩৭৫
  • গ্রীণ পার্ক রেস্ট হাউজ, নলজুরী, জাফলং। যোগাযোগঃ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সিলেট-০১৭১১ ১৮০ ৫৭৪, কেয়ারটেকারঃ ০১৭৬৬ ৮৫৭ ১৬৮
  • সওজ বাংলো, জাফলং-যোগাযোগ-নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিলেট-০১৭৩০ ৭৮২ ৬৬২

”জাফলং” এ কি খাবেন

সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকার পানসি, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টের সুলভ মূল্যে পছন্দমত দেশী খাবার খেতে পারবেন। এছাড়াও এই রেস্টুরেন্ট গুলোতে প্রায় ৩০ রকমের ভর্তা পাওয়া যায়।

”জাফলং” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে
  • কিছু কিনতে বা খেতে গেলে দরদাম করে নিবেন
  • গাড়ি ঠিক করার সময় দরদাম করুন
  • ভারতীয় বর্ডার কাছেই, তাই সীমানার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন
  • জাফলং এর পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন, পাথর উত্তোলনের ফলে অনেক জায়গাই অনেক গভীর।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here