কমলক ঝর্ণা,সাজেক ভ্যালি,কংলাক ঝর্না,রিসাং ঝর্ণা,রিশাং ঝর্ণা,সাজেক,কংলাক পাড়া,কংলাক পাহাড়,সাজেক ভ্যালী,সাজেক ট্যুর,সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ,সাজেক ঝর্না,রিছাং ঝর্না,সাজেক ভ্রমন,কমলক

“কমলক ঝর্ণা” পরিচিতি

কমলক ঝর্ণা(Komlok Waterfalls) দেখতে হলে সাজেক ভ্যালির রুইলুই পাড়া হতে দুই থেকে তিন ঘন্টা ট্রেকিং করতে হয়। এই ঝর্না দেখতে হলে আপনার একটু কষ্ট করতে হবে। তাই প্রায় শতকরা ২০-৩০ ভাগ মানুষ এ শুধু কমলক ঝর্না দেখতে যায় আর বাকি শতকরা ৮০-৭০ ভাগ মানুষ যেতে চায়না। সাজেক ভ্যালির পাহাড়ের সাথে মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখার পর আরো রোমাঞ্চিত হতে চাইলে যেতে হবে কমলক ঝর্ণাটিতে। তবে এর জন্য অন্তত একদিন সাজেক ভ্যালিতে অবস্থান করতে হবে। কমলক ঝর্ণার স্থানীয় নাম হল পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা। মন মাতানো ঝিরিপথ ধরে চলতে চলতে পথভ্রষ্ট হতে পারেন অথবা অতি বৃষ্টির ফলে কোথাও কোথাও ঝিরিপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে সুতরাং আপনি যদি প্রথমবার ঝর্ণাটি দেখতে গিয়ে থাকেন তাহলে একজন গাইড সাথে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বর্ষায় ঝিরির পথ অনেক পিচ্ছিল থাকে আবার মাঝে মাঝে খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠতে এবং নামতে হয় তাই সতর্ক থাকবেন। আর গাইড নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকদের এড়ানোর চেষ্টা করবেন। কিছু টাকা দিলেই এরা রাজি হয়ে যায় তবে এদের সবাই বিশ্বস্ত না। অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতায় না পড়ার জন্য গাইডের বেপারে আপনার রিসোর্ট কতৃপক্ষের সাথে আলাপ করে নিবেন।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া

“কমলক ঝর্ণা” কিভাবে যাবেন

আপনি বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থাকুননা কেনও কমলক ঝর্ণা দেখতে যেতে হলে প্রথমে খাগড়াছড়ি আসতে হবে।

ঢাকার সায়েদাবাদ, কমলাপুর, কলাবাগান এবং ফকিরাপুল থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের বাস সার্ভিস আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সেন্টমার্টিন পরিবহণ, হানিফ পরিবহণ, শ্যামলী পরিবহন, শান্তি পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া। আপনার বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোন একটিকে বাছাই কোরে যেতে পাড়েন। বাসভেদে জনপ্রতি এসি/নন-এসি টিকেটের ভাড়া ৫২০ টাকা থেকে ১২০০টাকা।

চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘন্টা। চট্রগ্রাম শহরের কদমতলী থেকে বিআরটিসি এসি বাস খাগড়াছড়ির পথে চলাচল করে, ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। এবং অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ভাড়া ১৯০টাকা জনপ্রতি।

খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়িতে বা জীপগাড়ি ভাড়া করে সাজেক যেতে হবে। চান্দের গাড়ি রিজার্ভ ভাড়া পড়বে ৬৫০০ থেকে ৭৫০০ টাকা। এক গাড়িতে ১৫ জন বসতে পারবেন। সিএনজি নিয়েও সাজেক যাওয়া যায়, ভাড়া পরবে প্রায় ৩০০০ টাকা।

সাজেকে যাওয়া আসার সকল বিস্তারিত তথ্য জানতে পড়ুন সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ গাইড-২০২০

কোথায় খাবেন

কমলক ঝর্ণা(Komlok Waterfalls) যেহেতু সাজেক থেকে যেতে হয় তাই আপনাকে সাজেকই খেতে হবে। সাজেক ভ্যালি(sajek valley) খাওয়ার জন্যে অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। প্রায় সব রিসোর্টে নিজস্ব খাবার ব্যবস্থাও আছে। তবে অনেক রেস্টুরেন্টে আগেই খাবার অর্ডার করে রাখতে হবে। কি দিয়ে খাবেন কতজন খাবেন তা বলে দিতে হয়।

কোথায় থাকবেন

সাজেক ভ্যালি(sajek valley) থাকার জন্যে অনেক সুন্দর সুন্দর রিসোর্ট রয়েছে। প্রায় সব রিসোর্টগুলো কাঠ নিয়ে তৈরি করা পাহাড়ের ঢালে থেকে খুব মজা পাবেন। রিসোর্টের অবস্থান ও সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী সাধারণত ৪ জনের শেয়ার করে থাকার জন্যে রুম ২০০০-৩৫০০ টাকা, কাপল রুম ১৫০০-৩০০০ টাকায় থাকতে পারবেন। আপনার পছন্দ এবং বাজেট অনুযায়ী রিসোর্টে থাকতে পারবেন। তবে ছুটির দিন কিংবা পিক সময়ে গেলে আগে থেকে রিসোর্ট বুকিং করে যেতে হবে তাছাড়া আপনার রিসোর্ট পেতে ঝামেলায় পড়তে হবে। সাজেকের সকল রিসোর্টের তথ্য জানতে পড়তে পারেন আমাদের সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ গাইড-২০২০

“কমলক ঝর্ণা” ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • সাজেক ভ্যালির ভ্রমণের সকল তথ্য পেতে দেখে আসুন আমাদের সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ গাইড-২০২০
  • গ্রুপ করে যাওয়ার চেষ্টা করুন তাহলে খরচ কম হবে।
  • কিছু কিনতে বা খাবার খেতে হলে দরদাম করে নিবেন এতে করে আপনার খরচ বাঁচবে।
  • হোটেল বা রিসোর্ট, বোট বা নৌকা এবং অন্যান্য যানবাহন ভাড়া করার সময় দরদাম করে নিবেন কারণ আপনার কাছে চালকরা বেশি দাম চাইবে।
  • দিন যতই যাবে সব কিছুর দাম ততই পরিবর্তন হতে থাকবে তাই যাওয়ার আগে অবশ্যই সব কিছু যাচাই করে যাবেন এবং আমাদের দেওয়া হোটেল বা রিসোর্ট ও রেস্টহাউজগুলোর ফোন নম্বরে কল করে থাকার ব্যবস্থা করে যাবেন যদি রাতে থাকতে চান।
  • পাহাড়ে চড়ার সময়, কোন যানবাহনে চড়ার সময়, পানিতে নামার সময় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
  • ঝর্না দেখার জন্য ভালো সময় বর্ষাকাল তাই বর্ষাকালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই ভালো মানের গ্রিপ জুতা ব্যবহার করবেন ট্র্যাকিং এর সময়।
  • কোথাও তাড়াহুড়া করে কোন কাজ করবেন না কারণ সময় থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।
  • সাথে সব সময় পানি বা হালকা কিছু খাবার রাখবেন।

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেলার গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here