কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত,কক্সবাজার,কক্সবাজার ভ্রমণ,কক্সবাজার সমুদ্র,সমুদ্র সৈকত,কক্সবাজার সি বিচ,কক্সবাজার বিচে,সমুদ্র,কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড,বাংলাদেশ কক্সবাজার

“কক্সবাজার” পরিচিতি

কক্সবাজার(Cox’s Bazar) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর, মৎস বন্দর এবং পর্যটন কেন্দ্র। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার সদর দপ্ত। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত, যা ১২২ কি. মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। একসময় কক্সবাজার পানোয়া নামেও পরিচিত ছিল যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে হলুদ ফুল। এর আরো একটি প্রাচীন   নাম হচ্ছে পালঙ্কি।

সোর্সঃ উইকিপেডিয়া

“কক্সবাজার” সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার(Cox’s Bazar) সমুদ্র সৈকত হলো পৃথিবীর সর্ববৃহত সমুদ্র সৈকত। বাংলাদেশে যে কয়টি ভ্রমণের জায়গা আছে তার মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই বৃহত্তর সমুদ্র সৈকত ১২২ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। কক্সবাজার সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও সূর্যাস্থ হলো এর প্রধান আকর্ষণ। প্রায় সারাবছর ধরেই অনেক দেশি ও বিদেশি পর্যটক দের আগমন ঘটে এই বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতে।

কক্সবাজার” পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানসমূহ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাদেও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে যা আপনার মনকে মুগ্ধ করবে। তাই পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঐ জায়গা গুলোও দেখে আসবেন।

  • হিমছড়ি
  • ইনানী সমুদ্র সৈকত
  • মহেশখালী
  • সেন্টমার্টিন
  • রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড
  • রামু বৌদ্ধ বিহার

“কক্সবাজার” ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সাধারণত শীতকালকেই ভ্রমণ মৌসুম বলা হয়ে থাকে। শীতকালেই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। তবে কক্সবাজার এমন একটা জায়গা যেখানে বছরের যেকোনো সময়ই ঘুরতে যেতে পারেন। বছরের বিভিন্ন সময় আপনি এই সমুদ্রের ভিন্ন ভিন্ন রুপ উপভোগ করতে পারবেন। শীতকাল ব্যাতিত যেকোনো সময় কক্সবাজার(Cox’s Bazar) ঘুরতে গেলে আপনার অনেক সুবিধা হবে,খুব কম খরচে হোটেলে থাকা,খাওয়ার সুবিধা পাবেন। 

“কক্সবাজার” যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কক্সবাজার সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসগুলোর মধ্যে সৌদিয়া,এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস. আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শ্রেণি ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৯০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত। 

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার(Cox’s Bazar) ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতি/গোধূলী, চট্টগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এরপর চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা অথবা দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এস আলম, হানিফ, ইউনিক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরন ও মানের বাস পাবেন। বাস ভেদে ভাড়া ২৮০-৫৫০ টাকা।

এছাড়া বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা সহ বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া আকাশ পথে চট্টগ্রাম এসে সড়ক পথে উপরে উল্লেখিত উপায়ে কক্সবাজার যেতে পারবে। 

“কক্সবাজার” কোথায় থাকবেন

কক্সবাজারের হোটেল গুলো উন্নত মানের হয়ে থাকে এবং এর ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৫০০০০ জন। তাই অফ সিজনে গেলে বুকিং করে যাবার দরকার নেই। কিন্তু সিজনে গেলে অবশ্যই বুকিং দিয়ে যাবেন। বিশেষ করে যারা ডিসেম্বর ১৫ থেকে জানুয়ারি ১৫ এর মধ্যে যাবেন তারা বুকিং ছাড়া গেলে রুম পাবেন না ধরে নিতে পারেন। 

সাধারণত দামানুসারে কক্সবাজার হোটেল/মোটেল/রিসোর্ট গুলো কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

৬০০০০ থেকে ১০০০০ টাকাঃ মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ ইত্যাদি। 

৩০০০ থেকে ৬০০০ টাকাঃ হোটেল সী ক্রাউন, সী প্যালেস, সী গাল, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, ইউনি রিসোর্ট ইত্যাদি। 

৮০০ থেকে ৩০০০ টাকাঃ উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বিচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন,  কল্লোল, সেন্টমার্টিন রিসোর্ট, হানিমুন রিসোর্ট, নিলীমা রিসোর্ট ইত্যাদি। 

তবে উপরে উল্লেখিত মূল্যের চেয়েও কমে হোটেল পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আগে থেকে খোঁজ খবর নিতে হবে।অফ সিজনে সব হোটেলেই ভাড়া প্রায় অর্ধেকের মত হয় তাই কক্সবাজার(Cox’s Bazar) নেমে নিজেই দরদাম করে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। হোটেল খোঁজার ক্ষেত্রে রিকশাওয়ালা বা সিনজিওয়ালার পরামর্শ নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে হোটেলের ফেইসবুক পেইজ বা ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

“কক্সবাজারে” কি কি করতে পারেন

কক্সবাজার(Cox’s Bazar) সমুদ্রের উত্তাল জলরাশ, তপ্ত বালি এবং ঝাউবনের সারি আপনাকে আকর্ষণ করবেই। সমুদ্রের বালুময় ভুমিতে হাটাহাটি, সাগরের জলে স্নান আার সূর্যাস্থের নয়নাভিরাম দৃশ্য গুলো প্রতি মুহূর্তেই আপনাকে মানুষিক প্রশান্তি দিবে। সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন এবং সতর্কতার সাথে সমুদ্রে নামুন। কক্সবাজারে শপিং করতে চাইলে চলে যেতে পারেন বার্মিজ মার্কেটে।

কক্সবাজার সমুদ্রের অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে সূর্য উদয় ও সূর্যাস্থের সময় বিচে অবস্থান করতে হবে। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সমুদ্রর ভিন্ন রুপ দেখে আপনি নিশ্চিত বিমোহিত হবেন। পূর্নিমার সময় গেলে অবশ্যই সন্ধ্যার পরের সময়টুকু সৈকতে কাটাতে পারেন।

খুব কম টাকার বিনিময়ে সাগরে স্পিডবোট রাইড নিয়ে উত্তাল সাগরের বুকে ঘুরে আসতে পারেন। বিকেলে বের হলে চলে যেতে পারেন ইনানী বিচ অথবা হিমছড়ি ঝর্ণা দেখতে। এছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন মহেশখালী, কুতুবদিয়া, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, টেকনাফ কিংবা সেন্টমার্টিন

“কক্সবাজারে” খাওয়া-দাওয়া

কক্সবাজারে সব ধরণ ও মানের রেস্টুরেন্ট আছে। মধ্যম মানের বাজেট রেস্টুরেন্টের মধ্যে রোদলা, ঝাউবন, ধানসিঁড়ি, পৌষি, নিরিবিলি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সিজন অনুসারে অন্য সব কিছুর মত খাবারের দাম ও কম/বেশি হতে পারে।

আনুমানিক খাবারের দামঃ

  • ভাতঃ ২০-৪০ টাকা
  • মিক্সড ভর্তাঃ ৭৫/১৫০/৩০০ টাকা (৮-১০ আইটেম)
  • লইট্যা ফ্রাইঃ ১০০-১২০ টাকা (প্রতি প্লেটে ৬-১০ টুকরো)
  • কোরাল/ভেটকিঃ ১৫০ টাকা (প্রতি পিছ)
  • গরুঃ ১৫০-২০০ টাকা (২ জন শেয়ার করা যাবে)
  • রুপচাঁদা ফ্রাই/রান্নাঃ ৩০০-৪০০ টাকা (বড়,২ জন খাওয়া যাবে)
  • ডালঃ ৩০-৬০ টাকা

এছাড়াও লাবনী পয়েন্ট সংলগ্ন হান্ডি রেস্তোরাঁ থেকে ২০০-২৫০ টাকায় হায়াদ্রাবাদী বিরিয়ানী খাওয়া যাবে।

কক্সবাজার ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • কম খরচে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য অফ সিজনে বেড়াতে যান
  • হোটেল ঠিক করার আগে হোটেল সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন
  • কিছু কেনা ও যাতায়াতের ভাড়ার ক্ষেত্রে ঠিকমতো দরদাম করে নিন
  • কোনো রেস্টুরেন্টে খাবার আগে দাম জিজ্ঞেস করে নিন
  • জোয়ার-ভাটার সময় মেনে সাগরে নামুন
  • যেকোনো সমস্যায় টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা নিন। হটলাইনঃ +৮৮০১৭ ৬৯৬৯ ০৭৪০

বিশেষ নিবেদন

বাংলাদেশের যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের সম্পদ। এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই এইসব স্থানের প্রাকৃতিক অথবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করবনা যাতে করে এইসব স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যায়। আমারা বাঙালি তাই আমরা কখনই চাইবনা আমাদের দেশের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে যাক। আমরা নিজেরা সৌন্দর্য্য উপভোগ করি এবং সবাইকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেই। এই দেশ আমাদের, এই দেশের সব কিছুই আমাদের তাই দেশের প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

বিডি ট্রাভেল গাইড সব সময় চেষ্টা করবে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান করতে। ভালো লাগলে শেয়ার করুন সবার সাথে এবং আমাদের সাথে থাকার অনুরুধ রইল। ধন্যবাদ।।।

হ্যাপি ট্যুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here